কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর ফুটবল মাঠে এ উপলক্ষে সমাবেশ শুরু হয়। এতে পার্শ্ববর্তী ক্যাম্প-২৪, ২৫ ও ২৭-এর রোহিঙ্গারা দলে দলে যোগ দেন।
গণহত্যা দিবসে রোহিঙ্গারা শুধু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড নয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি, সহিংসতা ও কষ্টের ইতিহাসও স্মরণ করেন। সমাবেশে হত্যাকাণ্ড, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, নাগরিকত্ব হরণ, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, দারিদ্র্য, পরিবার বিচ্ছিন্নতা এবং রোহিঙ্গা শিবিরের চলমান সংকট নিয়ে বক্তব্য দেন তারা।
বক্তারা বলেন, দশ-বারো লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দীর্ঘ নয় বছর ধরে নিজেদের জন্মভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ত্রিপল ও বাঁশের ঘরে বসবাস করছেন। অন্যদিকে মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারাও অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। নানা সংকট ও নির্যাতনের মধ্যেও রোহিঙ্গা পরিচয় টিকে আছে বলে তারা উল্লেখ করেন। নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়।
বিশ্বের ধনাঢ্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিচয় রক্ষার পাশাপাশি পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি আরাকানে বিচার, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের দাবি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে রোহিঙ্গারা ‘গোলামী না আজাদী, আরকান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোহিঙ্গাদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশসহ সব দাতা দেশের জন্য এবং হারানো মা-বাবা, ভাই-বোনসহ নিহতদের স্মরণে দোয়া করা হয়।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্যাম্প-২৬-এর রোহিঙ্গা নেতা বদরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন ক্যাম্প-২৭-এর মোহাম্মদ নুর, ক্যাম্প-২৪-এর হেড মাঝি মোহাম্মদ আলম, ক্যাম্প-২৫-এর হেড মাঝি নুরুল আমিন, এইচ এফ তাহের, মোহাম্মদ আবু তৈয়ুব, মৌ. নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফেরদৌস, মোহাম্মদ শরীফ ও মোহাম্মদ সেলিমসহ অনেকে। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস।