“সরকার পরিবর্তন হয়, ভোট আসে ভোট যায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। নির্বাচনের আগে আমাদের খোঁজ নেয়, পরে আর কেউ দেখে না”—কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর এক যৌনকর্মী।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, মাওয়া-পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এখানে বাইরের লোকজনের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে আয় কমে যাওয়ায় বাড়িওয়ালারা ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না, আর যৌনকর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই জানান, নিয়মিত খাবার জোটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর পূর্বপাড়ায় তালিকাভুক্ত ভোটার ১ হাজার ৭০৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৪১৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ২৯১ জন। পল্লীর বাইরে আশপাশের ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার হয়েছেন এমন যৌনকর্মীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে এখানে প্রায় দুই হাজার ভোটার রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে অবগত থাকলেও গণভোট কী—এ বিষয়ে অনেক বাসিন্দাই জানেন না। তারা বলেন, হ্যাঁ বা না ভোট দিলে কী হবে, সেটিও তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যৌনকর্মী বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার আগে দুটি ট্রেন দৌলতদিয়া স্টেশনে থামত, তখন লোকজনের সমাগম বেশি ছিল। এখন আর সেই অবস্থা নেই। এবারের নির্বাচনে যেই এমপি হোক, তার কাছে আমাদের একটাই দাবি—পূর্ণবাসন।
যৌনকর্মীদের সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম জানান, পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের গণভোট বিষয়ে সরকারি প্রচারণা বাড়াতে হবে। আর নির্বাচিত সরকারের কাছে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জীবনমান উন্নয়নের আহ্বান জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও সাথী দাস বলেন, গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সরকারি প্রচারণা চলছে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রতিনিধি ও এনজিওদের মাধ্যমে প্রচার জোরদার করা হবে। পূর্বপাড়ার ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।