
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং আসনে দুই প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী। মনোনয়ন প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ধারা এবং আসনের নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজীর মনোনয়ন প্রত্যাহার মূলত জোটগত ঐক্য এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০ দলীয় জোটের অংশ হওয়ায় খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য মাওলানা আনোয়ার হোসাইন নিজে পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ভূইয়া পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ২৯৮ নং আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোনা রতন চাকমাও একই দিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই প্রার্থীর আবেদন দাখিল করা হয়েছে। মনোনয়ন সংগ্রহ করা মোট ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বৈধ ঘোষণা করা হয় ১৩ প্রার্থীর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা খাগড়াছড়িতে জোটভিত্তিক রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দেবে। আসনটি এবার জোটভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। প্রার্থীরা এখন কৌশলগতভাবে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং সমর্থন সংগ্রহে মনোনিবেশ করবেন।
স্থানীয় রাজনীতিবিদরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের এই ধারা জোটের অভিন্ন কৌশল এবং সহযোগিতাকে দৃঢ় করবে। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী প্রার্থীদের অবস্থান ও জোটের শক্তি আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
এবারের খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচনী মাঠে মনোনয়ন প্রত্যাহারের এই ঘটনা রাজনৈতিক সমীকরণকে পরিবর্তন করেছে এবং জোটভিত্তিক রাজনীতিকে নতুন দিক প্রদান করেছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসনের সমস্ত প্রার্থী এখন জনগণের সমর্থন অর্জনের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবেন।