স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আরকান আর্মি ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে সকালে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরকান আর্মি। এতে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটলে আরকান আর্মি তাদের তাড়া করে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত চলে আসে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।
এই গোলাগুলির মধ্যেই হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলার সময় হুজাইফা সুলতানা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়। সে হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। আহত শিশুর পিতা জসিম উদ্দিন জানান, স্কুলে যাওয়ার আগে বাড়ির সামনে খেলছিল হুজাইফা। হঠাৎ গুলিতে তার কানের পাশে আঘাত লাগে এবং সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবিত রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে আরসাসহ বিভিন্ন স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫০ জন সদস্যকে বিজিবি ও পুলিশ আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।