
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৫, ১৭:৪০

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পায়াক্ট বাংলাদেশ সেফহোমে বসবাস করছে ১৫ জন অবহেলিত শিশু। এদের কেউ বাবা-মা হীন, কেউবা একেবারেই একা। এখনও খেলার বয়স, ভালোবাসার বয়স, আর মানবিক যত্নে বড় হওয়ার সময়, অথচ ভাগ্য তাদের জীবনকে গুছিয়ে দেয়নি। ঠিক এই শিশুদের জন্যই মানবিক আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পায়াক্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন, যারা দায়িত্ব নিয়েছে তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার।
এই সংগঠনটি এর আগেও অনাথ মেয়েদের বিয়ে দিয়ে সমাজে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কোরআনে হাফেজ হয়েছে, কেউবা উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তবে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ বর্তমানে বেশ অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।
তিনি হঠাৎ করেই উপস্থিত হন সেফহোমে। শিশুদের জন্য সঙ্গে আনেন খেলনা ও উন্নতমানের খাবার। তাদের সঙ্গে খেলেন, গল্প করেন, খাওয়াদাওয়া করেন—একদিনের জন্য হয়ে উঠেন তাদের ‘বাবা’। এই ভালোবাসা ও স্নেহে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে শিশুদের চোখেমুখে।
ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটি দিন। তিনি জানান, যতদিন এলাকায় কর্মরত থাকবেন, শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে পাশে থাকবেন। সেইসঙ্গে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান।

পায়াক্ট বাংলাদেশ সেফহোমের ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান জানান, এই শিশুদের বেশিরভাগই যৌনপল্লীর সন্তান। তারা নানা ধরনের অবহেলা ও নিগ্রহের শিকার। তাদের মানবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য।
এই রকম ভালোবাসা ও উদ্যোগ শুধু শিশুদের মুখে হাসি ফোটায় না, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখায়। ওসি রাকিবুলের এই আচরণ প্রমাণ করে, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিকতা একসাথে থাকলে সমাজ অনেক সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
এই গল্পটি কেবল একজন পুলিশ কর্মকর্তার মানবিক স্পর্শের নয়, বরং একটি পথ দেখানো গল্প—যেখানে সমাজের প্রতিটি মানুষ এক ধাপ এগিয়ে এলে অবহেলিতদের জীবনেও আলো জ্বলে উঠতে পারে।