
প্রকাশ: ৮ মে ২০২৫, ১২:৫৩

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মসজিদের ছাদে আঙুর চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা সৈয়দুর রহমান ফারুক তরফদার। সিন্দুরখান ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের এই বাসিন্দা শখের বশে চাষ শুরু করলেও এখন তা পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক সফলতায়। ছাদের টবে থোকা থোকা ঝুলছে আঙুর, যা দেখে অভিভূত এলাকাবাসী ও আগ্রহী হয়ে উঠছেন আশপাশের কৃষকরাও।
২০২৪ সালে যশোর থেকে আনা চয়ন জাতের ৪০টি চারা দিয়ে ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন ফারুক। সাফল্য দেখে এবার মসজিদের ছাদে সাড়ে তিন শতক ও নিজ বাড়ির আঙিনায় প্রায় তিন শতাংশ জমিতে আঙুর চাষ করেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে চয়ন ছাড়াও বিভিন্ন জাতের প্রায় অর্ধশত গাছ রয়েছে।
গাছগুলো বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাঁশের খুঁটি ও তারের মাধ্যমে মাচা তৈরি করেন। মার্চে গাছে ফুল আসে এবং এপ্রিলেই ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে মাচাগুলোতে আঙুরে ছেয়ে গেছে, যা ফারুকের পরিশ্রমেরই ফল। এ পর্যন্ত তিনি ত্রিশ হাজার টাকার আঙুর ও চারা বিক্রি করেছেন এবং আরও দুই লক্ষাধিক টাকার বিক্রির আশা করছেন।
ফারুক জানান, এবার চারা ও ফল বিক্রির আয়ের একটি অংশ মসজিদের উন্নয়নে দান করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। আঙুর ছাড়াও ছাদ ও আঙিনায় মালটা, কমলা, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি ও ফল চাষ করছেন তিনি, যা তার উদ্যোগকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

স্থানীয় কৃষি দপ্তরের উপ-সহকারি কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন শুরু থেকেই ফারুককে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, দেশে এখনও নিজস্ব কোনো আঙুর জাত নেই, তবে ফারুকের মত উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফারুকের মতে, আঙুর চাষে জৈবসার ও নিয়মিত পরিচর্যাই যথেষ্ট, খরচ কম। একটি গাছ ৪০-৫০ বছর ফল দিতে পারে, বছরে তিনবার ফল আসে এবং প্রতিটি গাছে দেড় থেকে দুই মণ ফল পাওয়া যায়। এমন সম্ভাবনার কথা শুনে স্থানীয় অনেক কৃষক ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ফারুকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, প্রযুক্তি ও পরামর্শ পেলে দেশের মাটিতেই ভিনদেশি ফল উৎপাদন সম্ভব। তার সফলতা নতুন কৃষকদের সাহস জোগাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।