রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দালালচক্রের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন মো. নাজিম রেজা নামে এক প্রকৌশলী। তিনি গাজীপুরের উত্তরা মোটরসে এজিএম পদে কর্মরত এবং ঈদের ছুটি শেষে সপরিবারে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছালে তিনি ফেরিতে জাল টিকিট নিয়ে এক চক্রের তৎপরতা দেখতে পান। বিষয়টি বুঝে তিনি নিজের মোবাইলে ছবি তুললে কিছু যুবক তার ওপর চড়াও হয় এবং ছবি ডিলিট করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
নাজিম রেজা জানান, তার বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নাড়ুয়ার গ্রামে। ঈদের ছুটি শেষে ভোরে শ্বশুরবাড়ি পাংশা থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ রওনা দিয়ে দৌলতদিয়ায় পৌঁছান। ফেরিতে ওঠার পর দেখা যায়, একটি ট্রাক নিয়ে জাল টিকিট নিয়ে বিতর্ক চলছে। তিনি টিকিট দুটি পরীক্ষা করে কিছু ছবি তুলেন, যেখানে তারিখ ঘষামাজা অবস্থায় দেখা যায়। এমন সময় কয়েকজন অচেনা যুবক তার কাছে এসে মোবাইল থেকে ছবি মুছে ফেলতে বলে এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে।
প্রকৌশলী নাজিম জানান, ওই যুবকরা নিজেদের ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে তাকে কলার চেপে ধরে ও গায়ে হাত তোলে। পরে ফেরিতে থাকা কয়েকজন চালক এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। এ ঘটনায় প্রায় চল্লিশ মিনিট দেরিতে ফেরি ঘাট ছাড়ে এবং অনেক যাত্রী কর্মস্থলে ফিরতে সময় নষ্ট করেন।
তিনি আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং কেউ প্রতিবাদ করলেই হয়রানির শিকার হন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ আলী শিপন জানান, নাজিম রেজার ফেসবুক লাইভটি তিনি দেখেছেন এবং ছাত্রদলের কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, টিকিট চেকিংয়ে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরে একজন কর্মকর্তা গিয়ে টিকিট পরীক্ষা করেন। যদিও তিনি টিকিটটিকে জাল বলতে নারাজ, তবে হামলার বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঘাট এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়, যারা সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি করে থাকে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এদিকে প্রকৌশলী নাজিম রেজার ওপর হামলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে এ ধরনের অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন এবং দৌলতদিয়া ঘাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।