দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিজ বাড়িতে রেখে শ্বশুর বাড়ী গিয়ে জামাই কর্তৃক পেট্রোল দিয়ে নিজ শাশুড়িকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় জামাই পলাতক রয়েছেন।
বুধবার(২ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬ ঘটিকার দিকে বিরামপুর পৌরশহরের ৫ নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে শাশুড়ি গায়ে পেট্রোল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে মাদকাসক্ত জামাই মেহেদুল ইসলাম। আগুনে দগ্ধ অবস্থায় শাশুড়ি বুলির আর্তনাদ শুনতে পেয়ে স্থানীয়রা বুলির দগ্ধ শরীরের আগুন নিভিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেন।
মাদকাসক্ত পলাতক জামাই পৌরশহরের পূর্বপাড়া গ্রামের আজিবর মন্ডলের ছেলে মেহেদুল ইসলাম।সে বর্তমানে পৌরশহরের হাবিবপুর এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন।
স্থানীয়রা জানান, জামাই মেহেদুল ইসলাম পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।সে তাঁর খালা শাশুড়ির ছেলের অটোরিকশা ভাড়ায় চালাতো। অটোরিকশাটি নষ্ট করে ফেলে রাখায় তার খালা শাশুড়ির ছেলে অন্যকে ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে।এবিষয়ে জানতে পেরে জামাই মেহেদুল ইসলাম ও তাঁর শাশুড়ি বুলির সাথে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে তাঁর শশুর বাড়ী গিয়ে শাশুড়ি গায়ে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। এতে শাশুড়ির মাথার চুলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে যায়। বুলির জামাই মাদকাসক্ত বলে শুনেছি।
বিরামপুর পৌরসভার সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আঙ্গুরা পারভিন জানান, আজ সকালে আমার বাড়ির পাশে হঠাৎ করে চিল্লাচিল্লি করছিল অনেকে। বাড়ির বাহিরে এসে দেখি বুলির শরীরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে স্থানীয়রা।পরে জানতে পারি তার নিজের জামাই শাশুড়ি বুলির শরীরের পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। শুনেছি তার জামাই না কি মাদকাসক্ত।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমতাজুল হক এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।