
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ২২:৫৫

নওগাঁ সদর উপজেলার সাহাপুর কান্দুরপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৪ জন আহত হয়েছেন। ৬ ডিসেম্বর বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং আহতরা স্থানীয় আলেফ দপ্তরীর পরিবার সদস্য। হামলার পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁ সদর উপজেলার সাহাপুর কান্দুরপাড়া গ্রামের আলেফ দপ্তরী ও রুবেল হোসেনের পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রুবেল হোসেন, তার দুলাভাই মো. সুজন, স্ত্রী মারুফা, বোন পারুল, ভাগ্নি ফারজানা মাবিয়া ও আরও ১৫-২০ জন এলাকাবাসী একত্র হয়ে আলেফ দপ্তরীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, রামদা ও শাবল দিয়ে হামলা চালানো হয়। বাড়ির মেইনগেটে আঘাত করে দরজা ভেঙে তারা ভিতরে প্রবেশ করে এবং বাড়ির সদস্যদের মারধর করতে থাকে।
হামলাকারীদের আক্রমণের সময় আলেফ দপ্তরী, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, আরেক স্ত্রী জোছনা বেগম, মেয়ে দুলালী ও ছেলে তারেক দপ্তরী গুরুতর আহত হন। তাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়।

আলেফ দপ্তরী জানিয়েছেন, তারা একই এলাকায় বসবাস করলেও পূর্ববিরোধের কারণে তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, হামলাকারীরা তাদের পরিবারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে উল্টো মামলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনায় সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
প্রধান অভিযুক্ত রুবেল হোসেন বলেন, তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল এবং কিছুদিন আগে প্রশাসন সেটি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ঘটনার দিন আলেফ দপ্তরীর ছেলে আরমান বাড়িতে আসার পর তাদের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। তিনি জানান, এই ঘটনার জন্য শুধু তিনি দায়ী নন, তার সঙ্গে আরো অনেকে ছিল। রুবেল হোসেনও থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।