প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:৩
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে ছোট ভাই আবু মুন্সি (২৮) বড় দুই ভাই নাসির মুন্সি (৪৫) এবং বশির মুন্সি (৩৮) কে গুরুতর জখম করার পর ছোট ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে ফেলেছে।
জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি সমভাবে ভাগ করে দেয়ার পরও আবু মুন্সি নিয়মিতভাবে বড় ভাইদের সাথে মারামারি ও পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ফলে এলাকাবাসী একাধিকবার সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর, আবু মুন্সি বড় ভাই নাসির মুন্সি এবং মেঝ ভাই বশির মুন্সিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এই হামলার পর নাসির মুন্সি ও বশির মুন্সি কুয়াকাটা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাসির মুন্সির পায়ের দুটি রগ কেটে যায়।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর, ১১ সেপ্টেম্বর সকালে মেঝ ভাই বশির মুন্সি ও তার সন্তানরা আবু মুন্সিকে বাজারে ধরে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আবু মুন্সিকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে পাঠায়। বাড়িতে ফিরে আবু মুন্সি মেঝ ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে ফেলে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে তুলাতলী ২০ শয্যা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালে পাঠানো হয়।
মহিপুর থানায় এ ঘটনায় আবু মুন্সির দ্বিতীয় স্ত্রী একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ নুরু মুন্সি, আবু মুন্সির বাবা, কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবু মুন্সি আগে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত ছিল এবং বড় ভাইদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আচরণ করে আসছিল।
অভিযোগকারী স্থানীয়রা বলেন, আবু মুন্সি পরিবারের প্রতি তার অত্যাচার অব্যাহত রেখেছে এবং সবার সাথে বিরোধে লিপ্ত রয়েছে। তার মায়ের কান্নাভরা কণ্ঠে জানানো হয়েছে, তিন ছেলে চিকিৎসাধীন থাকায় তারা এই বৃদ্ধ বয়সে শান্তিতে থাকতে পারছে না।
মহিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন জানান, অভিযুক্ত আবু মুন্সির বাবা নুরু মুন্সি আটক করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা এই সহিংসতার অবসান কামনা করছেন।