
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৫৩

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি তাজা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় এক কিশোরের মাধ্যমে এই গ্রেনেডটি আবিষ্কার হয়। গ্রেনেডটি পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) 'র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের সাবরাং এলাকার নয়াপাড়ার মো. ওমর ফারুক (১৩) নামে এক কিশোর নাফ নদীতে ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরছিল। সে সময় নদীতে একটি ভাসমান ব্যাগের সন্ধান পায়। কৌতূহলবশত ব্যাগটি উদ্ধার করে খুললে ভেতরে একটি প্রাইমিং করা হ্যান্ড গ্রেনেড দেখতে পায়। কোনো বিলম্ব না করে, ওমর ফারুক দ্রুততার সঙ্গে এই বিপজ্জনক বস্তুটি সাবরাং বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) তে নিয়ে যায় এবং সেখানে তা জমা দেয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সাবরাং বিওপি থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উত্তরে, সীমান্ত পিলার ৪ এর কাছে, এই ঘটনা ঘটে। নাফ নদীটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর অবস্থিত, যা প্রায়ই পাচারকারীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের এলাকায় এমন বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যাওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “একজন স্থানীয় জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় একটি ভাসমান ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগটি খুলে দেখা যায় যে এতে একটি প্রাইমিং করা তাজা হ্যান্ড গ্রেনেড রয়েছে। পরে সেটি বিজিবির সাবরাং বিওপিতে জমা দেওয়া হয়।”


এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নাফ নদীর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পাশ থেকে কোনো পাচারকারী বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই গ্রেনেডটি এনে নদীতে ফেলে দিয়েছে। যেহেতু এলাকাটি মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য কুখ্যাত, তাই এই ধরনের ঘটনায় আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ এই ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রী যে কোনো সময় প্রাণহানির কারণ হতে পারে। প্রশাসন স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে এবং এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক বস্তু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনা টেকনাফের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজিবি সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তারা এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।
এদিকে, উদ্ধার করা গ্রেনেডটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে আনা হয়েছে। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।