
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:৩৭

ঢাকার অপরাধজগতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একে একে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন, যা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ছয়জন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, যাদের অধিকাংশই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন। এদের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ ডজনখানেক মামলা। এতে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মুক্তি পাওয়া এসব সন্ত্রাসী আবারও ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
মুক্তিপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা
ইতিমধ্যেই মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন মিরপুরের আব্বাস আলী, যিনি ‘কিলার আব্বাস’ নামে পরিচিত। এছাড়া মুক্তি পেয়েছেন তেজগাঁওয়ের সুইডেন আসলাম, মোহাম্মদপুরের পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগের সানজিদুল ইসলাম ইমন, ঢাকার অপরাধজগতের আরও দুই নাম খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন এবং ফ্রিডম রাসু।
২০০১ সালের ডিসেম্বরে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে আব্বাস উদ্দিন ওরফে কিলার আব্বাস অন্যতম। তিনি অর্ধডজন হত্যার আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তার মতোই অন্যান্য সন্ত্রাসীরা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
অপরাধ বিশ্লেষকদের শঙ্কা
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কারাগারে থাকাকালীনও এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাদের মুক্তির ফলে আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে সহিংসতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, "উচ্চ আদালত থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি। এ ধরনের সন্ত্রাসীরা শুধু হত্যাকাণ্ডে নয়, বিভিন্ন অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালনার সঙ্গেও জড়িত। ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থেকেই যায়।"
গোয়েন্দা নজরদারি কমে গেছে

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, বড় অপরাধীদের উপর নজরদারি কমে যাওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সহজেই জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। এর আগে পুলিশের বিশেষ শাখাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অপরাধীদের ওপর নজর রাখত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় এই নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের পুনরায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জামিন পেয়েছেন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেলার লুৎফর রহমান বলেন, "যারা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তারা সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মুক্তি পেয়েছেন। নিয়ম মেনেই জামিন নিয়ে তারা কারাগার ছেড়েছেন।"
পুলিশের কঠোর অবস্থান
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক জানিয়েছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নতুন করে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে। তিনি আরও বলেন, "শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক বা গডফাদার, অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"