
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৭:১৭

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে দগ্ধ আহমেদ উল্লাহ (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আরও সাতজন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বরকত উল্লাহ (২৩), আনোয়ার হোসেন (৫০), আল আমিন (৩৬), জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), হাবিব (৩৬), আবুল কাসেম (৩৯) এবং খায়রুল ইসলাম (২১)। তাদের মধ্যে বরকত উল্লাহর শরীরের ৬০ শতাংশ, আনোয়ার হোসেনের ২৫ শতাংশ, আল আমিনের ৮০ শতাংশ, জাহাঙ্গীর আলমের ৭০ শতাংশ, হাবিবের ৪৫ শতাংশ, আবুল কাসেমের ৭০ শতাংশ এবং খায়রুল ইসলামের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদের সবার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক জানান, দগ্ধদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। সবার উন্নত চিকিৎসা চলছে, তবে বেশিরভাগেরই অবস্থা স্থিতিশীল নয়।
বিস্ফোরণের পটভূমি
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর তেঁতুলতলা এলাকার সাগর উপকূলে অবস্থিত শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এস এন করপোরেশন নামের একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শিপইয়ার্ডটিতে পুরনো জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। বিস্ফোরণের সময় শিপইয়ার্ডের ভেতরে কাজ করছিলেন ১২ জন শ্রমিক, যার মধ্যে ১২ জনই অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহাজ ভাঙার সময় কোনো একটি অংশে জমে থাকা গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকরা অগ্নিদগ্ধ হন। আহতদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ শনিবার জানান, দগ্ধ ১২ জনের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধদের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তাদের ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন
এই বিস্ফোরণ আবারও শিপইয়ার্ডে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। শিপইয়ার্ডগুলোতে প্রায়ই পুরনো জাহাজ ভাঙার সময় নিরাপত্তার অভাব ও গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তারা প্রায়ই গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ধরনের দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিপইয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো। শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং নিরাপত্তা মানের অভাবের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকদের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এই বিস্ফোরণ আবারও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।