
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৪, ২:৩২

আশাশুনির বিল,খাল,নদ নদীতে অবাধে চলছে অবৈধ জালে মাছ শিকার ও পোনা নিধন। ফলে দেশের মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এ উপজেলা ক্রমাগত মৎস্য শূন্য হয়ে পড়ছে। বিস্তীর্ণ নদী,বিল,খাল বেষ্টিত এ উপজেলায় পরিপূর্ণ এ উপজেলার উৎপাদিত মাছ স্থানীয় চাহিদাপূরণ করে সিংহভাগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত হচ্ছে। এ মৎস্য সম্পদ গত কয়েক বছর ধরে এ উপজেলায় কারেন্ট, মশারি, ভিমজাল দিয়ে মাছ ও পোনা অবাদে ধরা ও বিক্রয় হচ্ছে।
জানা যায়, এখনও বিল,খাল,নদীতে তেমন পানি না হলেও অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। জানা গেছে উপজেলার বৃহত্তম মোকাম বুধহাটা, বড়দল, খাজরা, আনুলিয়া, প্রতাপনগর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এইসব অবৈধ জাল প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বুধহাটার সাপ্তাহিক হাটে নতুন জাল প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কপোতাক্ষ, বেতনা, খোলপেটুয়া এবং পুইনজালা খাল ও চিউটিয়ার খাল, হিমখালি খাল, ধোপাখাল,বোশ খাল, শইলমারী খাল ,কোদরশা খাল,হলদে পোতার খাল, চেউটিয়া খাল, তেতোখালির খাল, পাংগামারীর খাল, পুটিমারি খাল, দোহরখাল, শালখালি খাল ,গলঘেসিয়া খাল, পুইজালা খাল, হাজরাখালির খাল, কাঁকড়াবুনিয়া, সোনাবাঁধল, কালিকাতলাখাল, বজরা খাল, দাঁড়ার খাল, গাবতলীর খাল, কলাবাড়িয়া খাল, মোকাম খালির খাল, গৌরাঙ্গ কুমারীর ঘুরে দেখা গেছে, অবাদে চলছে অবৈধ জালের মাছ নিধন ।

আশাশুনিতে ৬৫ দিন সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে আইন বাস্তবায়নে বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে।সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীতে "বিশেষ কম্বিং অপারেশন" পরিচালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার। এ সময় নদী হতে অবৈধ ৩টি বেহুন্দি জাল এবং ০৪ টি মশারী জাল আটক করা হয় যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
আটককৃত জাল মানিকখালী ব্রিজ সংলগ্ন নদীর চরে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এসআই মহিতুর রহমান সহ পুলিশ সদস্য ও মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট উজ্জ্বল অধিকারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সত্যজিৎ মজুমদার জানান, আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আশাশুনির এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা নদ নদীতে অবৈধ নীল নেট ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করে চলেছে। আশাশুনিতে এসব ক্ষতিকর অবৈধ জাল নির্মূলে (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত) বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে।এলাকার অভিজ্ঞদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এই উপজেলায় মৎস্য শূন্য ও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে পড়বে।