প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ৫:২১
‘এত বড় হাট। অথচ কোন ঘাট নেই। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘাট এখন মাটির নিচে। তাই চরম ভোগান্তিতে হাট ও বাজারে আসা হাজার হাজার মানুষ। জানিনা কবে এই ভোগান্তি শেষ হবে।’ সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার আগে কথা গুলো জানালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নাম বলার শর্তে তিনিসহ বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ী জানান, অরুয়াইল বাজারের পুর্ব পাশ দিয়ে মেঘনা- তিতাস নদীর পশ্চিম পাড়ে-৬৫ লাখ টাকার ঘাটটিও মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তার উপর একটি টং আর কাঠের বড় গাছের টুম আর বাঁশ রাখা হয়েছে। যার ছবি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা অরুয়াইল বাজারের এত বড় হাটে কোন পাবলিক ঘাট নেই। তাই বাজারে আসা হাজার হাজার মানুষের পণ্য উঠানামা ও বাজারে বসবাসকারী পরিবার গুলোর চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয়
লোকজন মুখ খুলতেই চাননি প্রথমে। পরে ব্যবসায়ীদের তথ্যের মতে দেখা যায়,উপজেলার তিতাস-মেঘনা নদীতীরে গুরুত্বপূর্ণ অরুয়াইল বাজারের সরকারি ঘাটলাটি দখল করে দোকান করে দখলে দহল তবিয়তে রয়েছেন। দখল নিয়ে চলছে এলাকায় মুখরোচক আলোচনা। এর আগেও অনেক গণমাধ্যমে এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় এ দখল নিয়ে একাধিকবার সদস্যরা বক্তব্য প্রকাশ করেন।
ময়লা আবর্জনা ফেলে ঘাটলায় বাঁশ ফেলে শেষ জায়গা দখল করেছে। আগেই ঘাটলার উপরে নির্মাণ করে হয়েছে স্থাপনা। ময়লা আবর্জনায় ভরাট হওয়ার ফলে ঘাটলাটি এখন আর ব্যবহার করতে পারছেন না নিরহ ব্যবসায়ীরা। এতে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।তাই সরকারি ঘাটলাটি দখলদারদের হাত থেক উদ্ধারের দাবি করেছেন স্হানীয় চেয়ারম্যান, বাজার কমিটি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ।ঘাটলা দখলে (৭০) বছরের রমজান আলী বলেনঃ সরকারের দেওয়া জনগণের ঘাটলা দখলে’কবর’হয়ে গেছে।
ময়লা আবর্জনা’ এখন বাঁশ’ ফেলে ঘাটলা-নদী দখল নিতে ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া। অরুয়াইল বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইঁয়া বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাজারে ব্যবহারের মত কোন ঘাট নেই। আমি বাজারবাসীর পক্ষ থেকে পুরানো ঘাট উদ্ধারের দাবি জানাই।নৌপথে নৌকা বা জাহাজ থেকে মালামাল লোড-আনলোড করার জন্য বাজারের বৃহৎ স্বার্থে বিশ্বব্যাংক প্রায়( ৬৫) লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি ঘাটলা নির্মাণ করেছিল।অরুয়াল বাজারের ভূমিদস্যুদের দখল থেকে রক্ষা পায়নি সরকারি এ ঘাটলাটি।আপনারা জানেন,এর আগেও সাংবাদিকদেরা আমার বক্তব্য নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি জানি আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার অত্যন্ত সুদক্ষ অফিসার, ইউএনও স্যারসহ এ দুজন উদ্যোগ নিলে ঘাটলা টি উদ্ধারে সক্ষম হবে। তিনি এ সময় আরো বলেন,ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় বড় বড় বিল্ডিং যদি ভেঙ্গে দিতে পারে। অরুয়াইল বাজারের ঘাটলা না শুধু ভূমিদস্যুদের দখলে সরকারি খাস জায়গায়, সরকারি সম্পত্তি লীজএনে ফিরি ফিরিসহ সকলকিছু উচ্ছেদ করার দাবী শুধু আমার না, এর আগেও এলাকাবাসী হাত উড়িয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও দাবী জানিয়েছেন।
তিনি এ সময় আরো বলেন,আমার’ একটি স্বপ্ন’ সরকারি ঘাটলা দখল মুক্ত করে অরুয়াইল বাজারের সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে, দখলদার বা ভূমিদস্যু মুক্ত ইউনিয়ন গড়তে চাই আমি। যাতে এ ইউনিয়নের জনগণ দখলের বন্দীর কুটিরে বন্দী না হয়ে সুন্দর পরিবেশে শান্তিতে স্বাধীন ভাবে বসবাস করতে পারে। এ ব্যপারে
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবা উল আলম ভূইঁয়া বলেন,মাটির নিচে ঘাটলার খোঁজ নেওয়া হবে। সরকারি সম্পত্তি কেউ দখল করতে পারবে না। জনস্বার্থে সরকারের স্থাপনা গুলো যারা দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। খোঁজ খবর নিয়ে সরকারি ঘাটলাটি উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।