
প্রকাশ: ১ জানুয়ারি ২০২৪, ৩:৩

মাছ ধরতে বেড়িয়ে নিখোঁজের ৩৯ ঘন্টা পর সোমবার (১ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় লাশ মিলল মৎস খামারে। ঘটনাটি ঘটে দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ছগুরা গ্রামের ‘ভাইয়া গ্রুপ’র পাশের একটি মৎস খামারে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, বুড়িচং উপজেলার কংশনগর গ্রামের মৃত: আব্দু মিয়ার পুত্র জালাল মিয়া(৫২) গত শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় বিল থেকে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন। সোমবার (১জানুয়ারী) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় দেবীদ্বার ও বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী দেবীদ্বার উপজেলার ছগুরা গ্রামের ‘ভাইয়া গ্রুপ’র পাশের একটি মৎস খামারে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় খুঁজে পান মৃতের স্বজনরা।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানা, দেবপুর পুলিশ ফাড়ি এবং বুড়িচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। নিহতের বাড়ি বুড়িচং উপজেলায় হওয়ায় এবং বুড়িচং থানায় রোবার (৩১ডিসেম্বর) নিখোঁজ ডায়েরী করায় বুড়িচং থানা পুলিশকে নিহতের মরদেহ বুঝিয়ে দিয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ চলে আসে।
নিহতের ছেলে আলমগীর(৩৭) জানান, বাবার মাছ ধরার শখ ছিল, প্রায়ই মাছ ধরতে খালে-বিলে নদীতে জাল ফেলতেন। গত শনিবার রাতে মাছ ধরতে যেয়ে তিনি নিখোঁজ হন। গতকাল রোববার খোঁজাখুজির পর ভাইয়া গ্রুপ সংলগ্ন মৎস খামারের পাশের জমিতে বাবার পায়ের জুতা ও মাছ ধরার জাল পরিত্যাক্ত অবস্থায় খুঁজে পাই। আমরা ওই মৎস খামারে জাল ফেলে এবং ডুবিয়ে অনেক খুঁজেও তাকে পাইনি। এ ঘটনায় গতকালই বুড়িচং থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি যার জিডি নং-১৪৯১/২৩। আজ ওই মৎস খামারেই তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাই। আমাদের সন্দেহ কেউ বাবাকে হত্যা করে মৎস খামারে ফেলে রেখেছে।

নিহত জালাল মিয়ার শ্যালক কংশনগর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, আমরা মরদেহ সনাক্ত করেছি। নিহত জালাল মিয়ার পরিবারে স্ত্রী, ২ কণ্যা ও ১ পুত্র সন্তান রয়েছে। পেশায় তিনি গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। পুত্র আলমগির রিক্সা চালায়, ২ কণ্যার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ভাইয়া গ্রুপের পরিচালক আল আমিন জানান, গতকাল নিহতের পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ এসে আমার ওয়েল মিলের সর্বত্র খুঁজে দেখেন, এমনকি আমার প্রতিটা তেলের ড্রামও খুঁজে দেখেছেন তারা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। তিনি আমার কর্মচারীও না তার সাথে কোন সম্পর্কও ছিলনা আমার।
এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম সন্ধ্যা ৭টায় ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাচ্ছি, ছোরতহাল রিপোর্টে আঘাত জনিত তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছেনা। ঘটনাটি গরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।