
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৩, ১৯:১৬

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় চলতি বছর যমুনা চরাঞ্চল সহ অন্যান্য এলাকায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও স্থানীয় হাট-বাজারে পাটের দাম কম থাকায় হতাশ পাট চাষিরা। গেল বছর উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও এবছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৩'শ ১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় পাট চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
সরে জমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাট চাষিরা ভোর থেকে পাট বিক্রির জন্য বিভিন্ন হাটে নিয়ে আসতে শুরু করেন। রবিবার (২৭ আগষ্ট) উপজেলার গোবিন্দাসী হাটে বেলা ১২টার মধ্যেই পাট বেচাকেনা শেষ হয়েছে। উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী পাটের জন্য বিখ্যাত গোবিন্দাসী হাটে প্রতি মন পাট বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকায়। এই হাটটিতেই গত বছর প্রতি মন পাট বিক্রি হয়েছে আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়।
উপজেলার রুলিপাড়া চরাঞ্চলের পাট চাষি শরীফ বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এ বছর আমাদের চরাঞ্চলে পাটে মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে পাট চাষে খরচের পরিমান অনেক বেড়ে গেছে এবং বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক পাট না কেটে খেতেই নষ্ট করে ফেলছে। এবছর পাট আবাদ করে আমাদের লোকসান হয়েছে।
গোবিন্দাসী হাটে পাট বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাটে এসে পাটের দাম শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেছে। এত কষ্ট করে পাট আবাদ করে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গত বছর যে পাট তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেছি সেই পাট এ বছর দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাট ব্যবসায়ী খন্দকার কাউসার বলেন, গেল বছরের চেয়ে এ বছর মোকামে পাটের দাম অনেক কম। যার কারণে কম দামেই আমাদের পাট কিনতে হচ্ছে। মোকামের বাজার অনুসারে ভালো পাট দুই থেক আড়াই হাজার টাকা এবং একটু নিম্ন মানের পাট দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে আমাদের।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এবছর যমুনা চরাঞ্চল সহ উপজেলায় ৪ হাজর ৩'শ ১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে । হেক্টর প্রতি ৩৭.৩৫ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরে উপজেলায় মোট পাট উৎপাদন হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৭ বেল। প্রথম দিকে যারা পাট বিক্রি করেছে তারা ভালো দাম পেয়েছে। তবে এখন হাট-বাজার গুলোতে একটু কম দামে পাট বিক্রি হচ্ছে।