প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৩, ২:১
জীবন জিবিকার তাগিদে অনেকেই বেছে নেয় হরেক রকম পেশা। তেমনি দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি বাজারের বিভিন্ন বস্তার আড়ৎ গুলোতে ছেঁড়া, ফাটা বস্তা সেলাইয়ের কাজ করছেন শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক। যে যত দ্রুত কাজ করতে পারবে তার উপার্যন তত বেশি। আর এই বস্তা সেলাইয়ের কাজ করেই চলে তাদের সংসার।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি স্থলবন্দর। এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন আমদানি হয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। প্রত্যেক আমদানি কারকদের রয়েছে পণ্য রাখার গুদাম। এই সব গুদামে প্রয়োজন হয় নতুন-পুরাতন বস্তার। আর এই সব বস্তার যোগান দিতেই হিলিতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু বস্তার আড়ত।
সোমবার (৩১ জুলাই) বন্দরের বস্তার আড়ত গুলো ঘুরে দেখা গেছে, ছেঁড়াফাটা ও পুরনো বস্তা সেলাই করছে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। আড়তের বারান্দায় অথবা ঘরে বসেই সুই, সুতলি দিয়ে সেলাই করছেন নানা প্রকার বস্তা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্ম ব্যস্ততা। দ্রুত হাত চালিয়ে যে যত সেলাই করবে তার উপার্জন হবে তত বেশি। বেশি ছেড়াফাটা বস্তা সেলাইয়ে মজুরি আড়াই থেকে তিন টাকা, অল্প ছেড়াফাটা বস্তা দেড় থেকে দুই টাকা আর সামান্য ছেড়াফাটা এক থেকে দেড় টাকা মজুরি পায় তারা।
কথা হয় বস্তা'র আড়তে ছেঁড়া ফাটা বস্তা সেলাই শ্রমিক ইমরান আলীর সাথে সে বলেন, আমি প্রায় সাত বছর যাবৎ এই বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে আসছি। সংসারে নিজের সন্তান, মা-বাবা, ছোট ভাই-বোন ও স্ত্রীসহ ৮ জন খানেয়ালা (সদস্য)। আমার উপর পুরো সংসারের দায়িত্ব। একদিন বসে থাকলে সংসার চলে না। তাই সংসারের এতোগুলো মানুষের চাহিদা মেটাতে আমাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আমি নিজেকে একটা যান্ত্রিক মানুষ মনে করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ পিচ ছেঁড়াফাটা বস্তা সেলাই করি। তা থেকে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রতিদিন উপর্জন হয়। কষ্ট হলেও চলছি কোন রকমে।
রেহেনা বেওয়া নামের একজন নারী শ্রমিকের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, প্রায় চার পাঁচ বছর হলো আমার স্বামী মারা গেছে। বস্তা সেলাইয়ের কাজ করেই দুই মেয়েকে নিয়ে চলছি। পুরুষদের মতো আমি ওতো জোরেসরে হাত চালাইতে পারি না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ টি বস্তা সেলাই করি। তাতে রোজগার হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা নাতি আমার কাছে থাকে। ছোট মেয়ে এইবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। মানুষের বাড়িতে ভাড়া থাকি।
কথা হয় হিলি বাজারের "আল্লাহর দান" বস্তা ঘরের মালিক রাশেদুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি। এই বন্দর দিয়ে প্রতি দিন বিভিন্ন পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে। ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করার সময় এবং দেশীয় ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য লোড করার সময় অনেক বস্তা ছেঁড়ে বা ফেটে যায়। যার কারণে বন্দর এলাকায় বস্তার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে এ এলাকায় বেশ কিছু বস্তার দোকান গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমার আড়তে চার জন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকে। সারাদিন পরিশ্রম শেষে তাদের ন্যায মজুরি প্রতিদিন দিতে হয়। তাদের সব সময় ভালমন্দ আমি দেখি। কোন সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টা করে আসছি।