
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২২, ৩:৩৪

আশাশুনি উপজেলার সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন বানিজ্যিক কেন্দ্র বুধহাটা বাজার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। বাজারের ফুটপাত যেন দখলের মহোৎসবে মেতেছে দোকানীরা। সড়কের ফুটপাত দখল করায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
বুধহাটা বাজারটির অভ্যন্তরিন সড়ক গুলোর পাশের প্রায় প্রতিটি দোকানীরা দোকানের মালামাল জনগনের চলাচলের ফুটপাত এবং ফুটপাত ছাড়াও সরাসরি সড়কের উপর রাখার যেন প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে। সেই সাথে ময়লা আর্র্বজনা ফেলায় ড্রেন গুলো বন্ধ হয়ে পানি সরতে না পারায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বাজারটি সাতক্ষীরা টু আশাশুনি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান হলেও বাজারটির ফুটপাত দখলের বিষয়টি যেন কোন কর্মকর্তার নজরেই আসেনা। সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলের অধিকাংশ সময় উপজেলা ও জেলার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের গাড়ী পড়ে থাকতে দেখা যায় দীর্ঘ জ্যামে। তাদের গুরুত্ব¡পূর্ণ সময় জ্যামে নষ্ট হলেও পরবর্তীতে সমস্যাটির সমাধান নিতে দেখা যায়না কোন উদ্যোগ।
প্রশাসনের এমন গাফিলতার কারণে স্থানীয় দোকানীরা যে যার ইচ্ছা মত দখল করে রেখেছে জনগনের চলাচলের ফুটপাত,চাদনী ও গলিগুলো। দেখে মনে হবে এ যেন দখলের মহোৎসব।
অপরদিকে বাজারটিতে মালামাল বিক্রয়ের জন্য নেই কোন নির্দিষ্ট মূল্য।যে যার মত করে মূল্য সাজিয়ে কেনাবেচা করছে।এখানে নেই কোন প্রতিকার বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা।
বাজারটিতে চাদনীর ব্যবস্থা থাকলেও সে গুলো সব ব্যক্তিগত বা মুষ্টিমেয় কিছু লোক ব্যবহার করছে।পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নিতী মানা হচ্ছে না।লোকারয়ে যার ইচ্ছা মত সেই পশু জবাই করছে।ফলে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।বিঘিœত হচ্ছে সমাজিক ব্যবস্থা।
পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাণী সম্পাদ বিভাগের অনুমতি লাগলেও সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গল দেখিয়ে যে যার মত ভাবে পশু জবাই করছে।মাংস বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নেই কোন নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা।আশাশুনি টু সাতক্ষীরা সড়কের পশ্চিম পাশে বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যেগে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং তার উপর দিয়ে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত নির্মান করা হয়েছিল ।

কিন্তু স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীরা সে ফুটপাত দখল করে সেখানে গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। অনুরুপ ভাবে বুধহাটা বাজারের কাচা বাজার সড়কসহ বাজারের অভ্যন্তরিন সড়ক গুলো এক পাশে করে দিয়েছেন ড্রেনেজ ব্যবস্থা।সেই ড্রেনেজ ব্যবস্থায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে চায়ের দোকান,মুদিদোকান,তরতারি ব্যবসায়ী ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা।ড্রেনের মধ্যে ফেলা হচ্ছে দোকানের ময়লা আর্বজনা।ফলে ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাষন ব্যবস্থা একে বারে ভেঙ্গে পড়ছে।
ফুটপাত দখলকারী দোকানীদের মধ্যে অধিকাংশ দোকানীরা হচ্ছে মুদি ব্যবসায়ী, কাসারি বা এ্যালুমেনীয়াম ব্যবসায়ী, মাংশ ব্যবসায়ী, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী, সেনিটেশান ব্যবসায়ী এবং ইজি বাইক ও পা ভ্যান চালকরা। আর এ কারণে বাজারের পথচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। ফুটপাত দখলের কারণে বিঘœ ঘটছে যান চলাচল, প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। আহত হচ্ছে পথচারী ও স্কুল পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রী।
এব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, আমরা প্রতিবাদ করলেও আমাদের কথায় কর্ণপাত করে না তারা। কিছু বলতে গেলে আমাদের উপর চড়াও হয় ফুটপাত দখলকারীরা।
ফুটপাত, অবৈধ ভাবে চাঁদনী দখল,বাজারের দখল কৃত জায়গা দখল মুক্ত করতে অতিদ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।