প্রকাশ: ৩ মার্চ ২০২২, ০:৫২
বরিশাল নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে স্কুল তালবদ্ধ করে বাড়ি চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাচ্চাদের ডাক চিৎকার ও কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে আটকে রাখার প্রায় এক ঘন্টা পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। তারা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন। ঘটনাটি বুধবার (০২ মার্চ) বিকেলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার কুদঘাট নামক স্থানে ৮নং নওগা ইন্দ্রকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
ঘটনার শিকার স্কুলটির চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী মারজান শিকদার এর মা শিরিন আক্তার আখি জানান, বুধবার স্কুল ছুটির সময়ে বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে শিক্ষিকা মাকসুদা বেগম তার ছেলে মারজান ও চতুর্থ শ্রেনীর আরেক শিক্ষার্থী মুনমুনকে অংক করতে বলেন এবং অংক শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি যাওয়া যাবেনা বলেও শাসিয়ে দেন। কিন্তু শিক্ষিকা মাকসুদা বেগম অংক করতে দিয়ে নিজেই বাড়ি চলে যান। আর শিশু শিক্ষার্থী দুজন নিজেদের মত করে অংক করতে থাকে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষিকাসহ সকলে চলে গেলে দপ্তরিও স্কুল গেটে তারা মেরে দেন।
এদিকে অংক শেষ করে রুম থেকে বেড়িয়ে শিশু দুটি গেটে তালা মারা দখে ভয়ে আতংকিত হয়ে পরে। প্রায় এক ঘন্টা পর তাদের ডাক চিৎকার ও কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে স্থানীয় একটি মেয়ে এগিয়ে আসে। তবে স্কুলের গেটে তালা থাকায় ভিতরে যেতে পারেনি সে। পরে মারজানের কাছ থেকে তার বাবা জামাল শিকদারের মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ফোন করে। তার মাধ্যমে মারজানের মা শিরিন আক্তার জানতে পেরে স্কুলে ছুটে আসেন। কিন্তু তখনও স্কুলের গেটে তারা মারাই ছিলো। তিনি দৌড়ে স্কুলের দপ্তরি ইমরানের বাড়িতে যান। কিন্তু ইমরান তার সাথে আরো রেগে অপমান অপদস্ত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিরিন আক্তার তাকে (ইমরান) চড় থাপ্পর মারেন। এক পর্যায় ইমরান স্কুলের গেটে খুলে দেয়।
এরইমধ্যে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে। পরে জনরোস থেকে বাঁচতে দপ্তরি স্কুলের ভিতর থেকে নিজেকে তালাবদ্ধ করে রাখে।
এ ঘটনায় আতংকিত শিশু মারজান রাতের বেলায় জ¦রে আক্রান্ত হয়। তার মা আরো জানান, সে রাতে ঘুমের মধ্যে বার বার চিৎকার দিয়ে ওঠে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবী করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি রাত পর্যন্ত শিশু দুটি ওখানে থাকতো তবে অন্ধকারে আতংকিত হয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। তারা এরকম কান্ডজ্ঞানহীন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শান্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। এব্যাপারে স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা তানিয়া সুলতানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্কুলটির শিক্ষক কিংবা কর্মচারী কেউ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মজুমদার জানান, এটি একটি গর্হিত কাজ হয়েছে। সরেজমিনে জানতে বৃহস্পতিবারই তিনি স্কুল পরিদর্শনে যান। সেই সাথে থানা শিক্ষা অফিসারকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশও দেন। সেই মোতাবেক বৃহস্পতিবার বিকালেই তিনি তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন বলে জানান।
সহকারী শিক্ষিকা মাকসুদা বেগম দায়িত্বহীনতার কাজ করেছেন বলে স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান, আগামী রোববারের মধ্যেই এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।