প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০:৪১
চতুর্থ ধাপে গতকাল ২৬শে ডিসেম্বর অনুষ্টিত হয়েছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ভোটে ৫টিতে ও ১টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বাকীগুলোর মধ্যে ৩টিতে বিএনপির, ২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে শহীদওহাবপুর ইউনিয়নে নূর মোহাম্মদ ভুঁইয়া, মিজানপুর ইউনিয়নে মোঃ টুকু মিজি,খানগঞ্জ ইউনিয়নে শরিফুর রহমান সোহান, মূলঘর ইউনিয়নে মোঃ ওহিদুজ্জামান শেখ, চন্দনী ইউনিয়নে আব্দুর রব ভোটাভুটির মাধ্যমে এবং বানীবহ ইউনিয়নে শেফালী আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (আগেই) নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে (প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে) বরাট ইউনিয়নে কাজী শামসুদ্দিন আনারস প্রতীকে, পাঁচুরিয়া ইউনিয়নে মোঃ মজিবর রহমান রতন আনারস প্রতীকে এবং খানখানাপুর ইউনিয়নে একেএম ইকবাল হোসেন চশমা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে (সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত) বসন্তপুর ইউনিয়নে জাকির সরদার এবং আলীপুর ইউনিয়নে আবু বক্কর সিদ্দিক নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র ৩জন প্রার্থীর মধ্যে রামকান্তপুর ইউনিয়নে রাজীব মোল্লা বাবু মোটর সাইকেল প্রতীকে, সুলতানপুর ইউনিয়নে আশিকুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে, এবং দাদশী ইউনিয়নে দেলোয়ার শেখ দেলো আনারস প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল ২৬শে ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারী ফলাফল অনুযায়ী, দাদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার শেখ দেলো আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রমজান আলী নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৮১০ ভোট পেয়েছেন। অপর ২জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর নবী শেখ ঘোড়া প্রতীকে ১হাজার ৪৪০ ভোট এবং বিদায়ী চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাফেজ মাওলানা লোকমান হোসেন মোটর সাইকেল প্রতীকে ১হাজার ৪১১ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নের ১৭ হাজার ৯৭৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২৪ জন ভোট দেন। প্রদত্ত ভোটের হার ৭৫.২২% (শতাংশ)। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩১২টি ভোট বৈধ এবং ২১২টি ভোট বাতিল হয়।
বরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা কাজী শামসুদ্দিন আনারস প্রতীকে ৬ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন শেখ নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়েছেন। অপর প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত বিদায়ী চেয়ারম্যান শেখ মনিরুজ্জামান সালাম হাতুড়ী প্রতীকে ২হাজার ৭৩৬ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৬৮ জন ভোটারের মধ্যে ১৩ হাজার ৪০০ জন ভোট দেন। প্রদত্ত ভোটের হার ৭৪.১৬%। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১৭০টি ভোট বৈধ এবং ২৩০টি ভোট বাতিল হয়।
পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মজিবর রহমান রতন আনারস প্রতীকে ৩ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিদায়ী চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর নৌকা প্রতীকে ২ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়েছেন। অপর ২জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আলাল খান ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ১২৫ ভোট এবং আনোয়ার হোসেন মিয়া মোটর সাইকেল প্রতীকে ৬৮৯ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নের ১১ হাজার ৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ৮ হাজার ২০৫ জন ভোট দেন। প্রদত্ত ভোটের হার ৭৪.০৯%। তার মধ্যে ৮ হাজার ৭৫টি ভোট বৈধ এবং ১৩০টি ভোট বাতিল হয়।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোট গণণা শেষে রাতে সদর উপজেলার কন্ট্রোল রুম থেকে পাঁচুরিয়া, বরাট ও দাদশী ইউপির নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ, খানগঞ্জ, চন্দনী ও রামকান্তপুর ইউপির নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আতাহার আলী, আলীপুর, বানীবহ ও মিজানপুর ইউপির নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে উপজেলা নির্বাচন অফিসার স্বপন কুমার সাহা, খানখানাপুর, শহীদওহাবপুর ও মূলঘর ইউপির নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান খান এবং বসন্তপুর ও সুলতানপুর ইউপির নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার খায়ের উদ্দিন বেসরকারীভাবে নির্বাচিতদের ফলাফল ঘোষণা করেন।