প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২১, ২২:১৭
মানব সেবা পরম ধর্ম। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিনিয়ত মানুষের সেবা করতে দেখা যায়। অনেকেই সারা জীবন মানুষের সেবা করে থাকেন। তার কর্মের দ্বারা বেঁচে থাকেন মানুষের মাঝে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এ রকম একটি ব্যতিক্রমধর্মী সেবা করে যাচ্ছেন।
নামাজ পড়তে গিয়ে অজু করার সময় হাত ও পকেট থেকে মোবাইল ফোন পানিতে পড়ে গিয়ে নষ্ট হলে সার্ভিসিং ফ্রি। আর এমনি এক সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে দোকানের সামনে। যা পথচারীসহ সকল মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। আর এমনিভাবেই মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে নজির স্থাপন করেছেন।
মোবাইল মেকানিক সোহেল রহমান টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী বাজারের আব্দুর রহমান টেলিকম এন্ড মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালকের এমন উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটা পুত্র সন্তান দান করেছেন। আমার একান্ত ইচ্ছা তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা। তাই আগে থেকেই যারা নামাজি তাদেরকে সেবা করছি। তিনি আরও জানান, আগে থেকেই আমার মনের মাঝে একটা স্বপ্ন পোষণ করতাম। কিভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ করা যায়। আর সেই স্বপ্ন প্রতিফলনের মাধ্যম হিসেবে এমনই উদ্যোগ নিয়েছি। আর জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমেই মানুষের মনে চিরদিনের জন্য স্থান করে নেওয়া যায়। আমার এমন উদ্যোগে আমি মানুষের কাছ থেকে বেশ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এমনিতেই কাজ কর্ম ভালো থাকে। তবে অজু করতে গিয়ে নষ্ট হওয়া মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করার পর থেকে কাজকর্ম অনেক বেড়ে গেছে। আর আমার কাজটা হবে নামাজ পড়তে যাওয়া মানুষদের জন্য। বিনা পয়সায় কাজটা করে দিলে তারা তো আমার জন্য মন খোলে দোয়াও করতে পারে।
নষ্ট হওয়া মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করে হাতে পাওয়ার পর আব্দুল বাছেদ বলেন, গত কয়েক দিন আগে আসরের নামাজের সময় অজু করতে গিয়ে আমার মোবাইলটা পকেট থেকে পানিতে পড়ে যায়। টাকার অভাবে মেরামত করতে পারছিলাম না। হঠাৎ এক লোক বললেন, গোবিন্দাসী বাজারের আব্দুর রহমান টেলিকম এন্ড মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের পরিচালক সোহেল রহমান নামাজ পড়া মুসল্লিদের অজু করতে মোবাইল নষ্ট হলে সেই মোবাইল বিনা পয়সায় মেরামত করে দেন। প্রথমে আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে আমার মোবাইলটা বিনা পয়সায় মেরামত করে দেওয়ার পর আমার বিশ্বাস হয়েছে। আমি নামাজ পড়ে দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা সোহেল ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করুন।
গোবিন্দাসী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ ছরোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, সোহেলের এমন একটি উদ্যােগ সত্যিকার অর্থে প্রশংসা পাওয়ার মতো। সে আরও ভালো ভালো ও জনসেবামূলক কাজ করে এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা করি। এ রকম একটি ব্যতিক্রমী উদ্যােগের জন্য সোহেলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।