প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২১, ১৮:১১
মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ড্রেজিং প্রকল্পের বালু ডাম্পিং নিয়ে চীনা কোম্পানি ও গ্রামবাসী মুখোমুখি অবস্থানে। কৃষি জমি ও মৎস্য খামার নষ্ট করে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোরপূর্বক বালু ডাম্পিংয়ের ফলে ফসলি জমি ও জলাভূমির ক্ষতি হবে, হুমকির মুখে পড়বে জীববৈচিত্র্য। বালু ঝড়ের আগ্রাসনে বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশ হওয়ার শঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় গ্রামবাসী। প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরির্দশনে আসলে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নারী-পুরুষ বালু ডাম্পিংয়ের স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানালে সুষ্ঠু-সমাধানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
বন্দর উন্নয়নে ৭০০ কোটি টাকার আউটার ড্রেজিংয়ের পর পশুর নদীতে ইনার বার ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। চীনা কোম্পানি ‘জেএইচসিইসি এবং সিসিইসিসি’ ঠিকাদার হিসেবে পশুর চ্যানেল খননের কাজটি করছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পশুর চ্যানেলের ড্রেজিং করার জন্য এ প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংকৃত মাটি ফেলার জন্য ৭০০ একর জমি হুকুম দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন জমির মালিকের প্রায় সাড়ে ৩০০ একর জমি রয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসী ওই জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের না জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার কোম্পানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষে বালু ভরাটের কাজ শুরু করে। মৎস্য ঘের, বসত বাড়ি ও কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা ছাড়াই মৎস্য ঘেরে পানি অপসারণ করে মাটি কেটে তাতে ডাইক নির্মাণ করে মাটি ভরাট করছে বলে গ্রামবাসীর দাবি।
এদিকে বালু ডাম্পিং এর অভিযোগে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার খবরে চিলা ইউনিয়নের কোলাবাড়ী এলাকায় কয়েকশ’ গ্রামবাসী নারী পুরুষ সমবেত হয়। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে অন্যায়ভাবে জমি দখল করছে বলে অভিযোগ করে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।
এলাকাবাসীরা জানান, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এগুলো যদি নিয়ে যায়; তাহলে আমরা বাঁচব কীভাবে। আমরা রাতদিন পাহারা দেব, তারপরও যদি না শুনে তাহলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে বালু ফেলবে। ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, আমরা চাই, অসহায় মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে বন্দরও বেঁচে থাকুক। নিয়মানুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধসহ এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী যতটুকু উঁচু করার কথা চার মিটার। সে অনুযায়ী হবে, কোনো পুকুরও ভরাট হবে না। একই সঙ্গে পরিবেশের কোনো ক্ষতি যাতে না হয় সে বিষয়ে দেখা হবে। মোংলা বন্দরের প্রকল্প পরিচালক মো. শওকাত হোসেন বলেন, টোটাল মাটি ফেলার জন্য যতটুকু হাইড দরকার ততটুকু উঁচু করা হবে। সেটা নিয়ম অনুযায়ী হবে।
দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়ার জন্য আউটার বার ড্রেজিংয়ের পর ইনার বার ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।