প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২১, ২২:২১
আসছে ২১ জুলাই মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল আযহা। ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে বরিশালের পশুর হাটগুলো। করোনাকালীন সময়ে পাইকারদের পাশাপাশি স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন খামার ও দেশী গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন হাটে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের হাটগুলোতে গরুর সংখ্যা কম।
বিক্রেতারা বলছেন দিন যত ঘনিয়ে আসবে হাট ততো জমজমাট হতে পারে। অবশ্য গত বছরের তুলনায় এবার হাটে আসা গরুর দাম কিছুটা বেশী বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
এদিকে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই। আর প্রশাসনেরও এক্ষেত্রে তেমন একটা তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
যদিও কোনহাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে ওই হাটের ইজারা বাতিল সহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম
সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ২২টি গরুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোডের বটতলা এলাকায় এবং অপরটি নগরীর রূপাতলী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুর ঢালে।
অপর ২০টি হাট বসছে জেলার ১০ উপজেলায়। এদিকে বরিশালে সরকারি অনলাইন গুরুর হাটের ব্যবস্থা করা হলেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি ক্রেতাদের।
অপরদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা কিংবা নগরীর পশুরহাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করেন না। এ নিয়ে নজরদারিও নেই কর্তৃপক্ষের।
গত শুক্রবার সদর উপজেলার চরমোনাই মাহফিল মাঠ, বানারীপাড়ার গুয়াচিত্রা এবং উজিরপুরের সোনারবাংলা এলাকায় বসে কোরবানির পশুরহাট। চরমোনাইর বিশাল মাহফিল মাঠে কয়েকশ’ গরু প্রদর্শন করা হলেও তুলনামূলক ক্রেতার দেখা মেলেনি।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গরু প্রদর্শন করলেও মাস্ক ছিলো না বেশিরভাগ ক্রেতা বিক্রেতার মুখে। একই অবস্থা বানারীপাড়ার গুয়াচিত্রা এবং উজিরপুরের সোনারবাংলা হাট সহ অন্যান্য পশুর হাটে।
মুনসুর নামে এক ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় খামারীসহ এবং গ্রামগঞ্জের গরুও এসেছে এই হাটে। তবে সে তুলনায় হাটে ক্রেতা নেই। যারা আসছেন দেখে শুনে দরদাম করে চলে যাচ্ছেন।
শুক্কুর বেপারী নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, একাধিক গরুর হাটে এবার দেশীয় গরুর সংখ্যা বেশি। ক্রেতাদের উপস্থিতি মোটামুটি হলেও এখনো বেচাবিক্রি নেই।
দক্ষিনাঞ্চলের অন্যতম বৃহদাকার গুয়াচিত্রা পশুর হাটে এবার প্রচুর গরুর আমদানী হয়েছে। সব গরুই দেশীয় জাতের। প্রচুর দর্শনার্থী এলেও সে তুলনায় বিক্রি হচ্ছে না।
চরমোনাই হাটে গরু বিক্রির খাজনা কাটার জন্য লাইন দিয়ে দাড়িয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে তাদের অধিকাংশকেই মাস্ক ছাড়া দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে, অন্যান্য হাটগুলোতেও।
চরমোনাই হাটে গরু কিনতে আসা কলেজ শিক্ষক সোলায়মান চৌধুরী বলেন, এখানে বড় মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচা করা হলেও অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতারা মুখে মাস্ক নেই। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সচেতন না হলে গরুর হাট থেকে করোনা সংক্রমন ছড়াতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বরিশাল জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আলম জানান, জেলায় ৪ হাজার ২শ’ ২৬টি বড়-ছোট পশুর খামারে মজুদ রয়েছে ৩৮ হাজার ৩শ’ ৯৫টি গরু এবং ৮ হাজার ২শ’ ২৪টি ছাগল। সরকারি নির্দেশে গত ২৫ জুন জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর ‘অনলাইন কোরবানির হাট বরিশাল’ নামে একটি অনলাইন পশুর হাট চালু করে।
মোট ১০ হাজার গরু ও ছাগলের ছবি ও বিক্রেতার নাম আপলোড করা হয় অনলাইন হাটে। কিন্তু অনলাইনে তেমন ক্রেতার সাড়া মিলছে না।
স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম জানান, এবার কোরবানির পশুরহাটগুলোতে কঠোর নজরদারি করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কোনহাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে ওই হাটের ইজারা বাতিল সহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।