প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২১, ২৩:১৯
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের খামারি আব্দুল মালেক সারা বছর বাড়িতে কমবেশি গরু পালন করেন। পাশাপাশি গরু মোটাতাজাকরণের সঙ্গে জড়িত। তবে ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে তার দুশ্চিন্তাও ততই বাড়ছে । গত বছর ২২টি গরু বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা লাভ করেছেন। এ বছর ১২টি গরু মোটাতাজা করেছেন। কিন্তু ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না। ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। গত মঙ্গলবার এক ব্যবসায়ী আগ্রহ দেখালেও খুবই কম দাম দিতে চান।
শুধু আব্দুল মালেকই নন কুষ্টিয়ার প্রায় বেশ কিছু খামারি তাঁদের খামার ও পরিবারে পোষা গরু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।খামারি আব্দুল মালেক বলেন, গত দুই বছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা ছিল। তাতে গরু বিক্রি করে কুষ্টিয়ার খামারিরা বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে লাভ তো দূরে থাক, আসল দাম তুলতে পারলেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আর গো-খাদ্যর যে দাম বেড়েছে তাতে লোকসান হবে বলে মনে হচ্ছে।
আব্দুল মালেক মতো জেলার বেশির ভাগ খামারিকে গরু বিক্রি করা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে লাভ কম হলেও অনেক খামারি স্থানীয় বাজারে আগেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর যারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি করেন তারা অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি বোঝার জন্য।
জেলার খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবার ঈদের দু-এক মাস আগে থেকেই জেলার হাটে হাটে ঘুরে ব্যাপারিরা গরু কিনে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন হাটে তুলতেন। এবার সেই সংখ্যা অনেক কম। জেলায় পশুর বড় হাট রয়েছে ১২টি। এসব হাট ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও ছোট ছোট হাট-বাজারে বিক্রির জন্য প্রতিদিন গরু ছাগল নিয়ে আসছেন খামারিরা। কিন্ত কেনা বেচা একদম কম। ঈদুল আজহার আর মাত্র ১০-১১ দিন বাকি থাকলেও বাইরের ব্যাপারিদের তেমন একটা দেখা মিলছে না।
কুষ্টিয়ার আলামপুর হাটের আজাহার আলী নামে আরেক ব্যাপারি বলেন, কুরবানির আগে দাম বাড়বে বলে মনে হয় না। মানুষের হাতে টাকা নেই। কুরবানির সংখ্যাও এবার কম হবে। বেশির ভাগ প্রান্তিক খামারি লোকসানে পড়বেন। অনেকেই গরু বিক্রি করতে পারবেন না। যারা বিক্রি করতে পারবেন তারা লাভ পাবেন কম।এদিকে, জেলার প্রাণিসম্পদ অফিস সুত্র জানায়, গত বছর জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ৯০ হাজারের মতো গরু পালন হয়েছিল। খামারিরা ভালোই লাভ পেয়েছিলেন। এবার গতবারের তুলনায় গরুর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, জেলায় এবার প্রচুর গরু পালন করেছেন খামারিরা। তবে ঈদ এগিয়ে আসায় তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলার যেসব খামার মালিক ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে গরু নিয়ে লাভ করতেন তারা এবার ক্ষতির মুখে পড়ে যেতে পারেন।দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে গরুর বাজার। স্থানীয় বাজারে কেনাবেচা হলেও বাইরে থেকে ব্যাপারিরা এবারে আসছেন না দেখে চিন্তা বেড়েছে খামারিদের।তিনি আরও বলেন, আমরা খামারিদের মনোবল বাড়াতে কাজ করছি। তাদের নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছি।