প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২১, ০:২৪
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে কঠোর লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন। লকডাউনে গোয়ালন্দ উপজেলায় পাড়া-মহল্লার গলির বেশিরভাগ চায়ের দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়।এসব দোকানের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীদের চলছে আড্ডা। টহলে থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ির রাউন্ড দেখলেই স্থানীয়রা অলিগলিতে পালিয়ে যান।
সোমবার (৬ জুলাই) লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার হাট জামতলা, দৌলতদিয়া বাজার, কাটাখালি সহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।হাট জামতলা এলাকার বাসিন্দা মো. খাইরুল আলম ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাসার জন্য বাজার করতে এসেছি।
পৌর জামতলা বাসিন্দা কামাল সেক বলেন, বাসার জন্য নাস্তা নিতে এসেছি। নাস্তা তৈরি হতে সময় লাগছে, তাই একটু দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি। উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি বন্ধ দোকানের সামনের সিঁড়িতে দলবেঁধে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় কয়েকজন তরুণকে। আড্ডা দেওয়া অবস্থায় মো.জাকির হোসেন বলেন, আমরা তো এখানে অল্প কয়েকজন পোলাপাইন আড্ডা দিতেছি। এই এলাকায় সন্ধ্যা সাতটার পরে অনেক ছেলেপেলে আড্ডা দেয়। লকডাউনে পুলিশের গাড়ি এখানে টহল দিতে আসে না। এলাকা মনোরম বলে এদিকে অনেকেই ঘুরতে আসে এবং আড্ডা দেয়।
লকডাউনের মধ্যে কয়েকটি গ্রামে ঘুড়ে দেখাযায়, মোড়ে মোড়ে একসঙ্গে জড়ো হয়ে অনেককেই লুডু খেলতে খেলছে। মো. ইব্রাহীম শেখ বলেন, আমরা এখানে বসে মোবাইলে লুডু খেলি আর তো কিছু করিনা। পুলিশের গাড়ি এলে আমরা আমাদের মত করে সরে যাই। পুলিশ চলে গেলে আবার এসে বসে লুডু খেলা শুরু করি। লকডাউনে অন্য কোথাও যেতে পারি না এজন্য বাসার সামনে বসে বসে মোবাইলে লুডু খেলি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকাটা একটু বড়। আমাদের পেট্রোল টিম লকডাউনের সব সময় টহল দিয়ে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমন রোধে সবাই কে সচেতন হতে হবে। তাছাড়া মহাসড়কেও আমাদের মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোষ্ট রয়েছে। আমাদের এ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজিজুল হক বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমাদের উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, মাঠে তৎপর রয়েছে। তবে নিজেদের সুরক্ষার জন্য সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।