প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২১, ১৮:৫
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
ঠিকাদারের কাজ শুরু করতে গড়িমসি করায় খোলপেটুয়া নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে রিং বাঁধ ভেঙ্গে ফের পানি ঢুকেছে আশাশুনি সদরের দুটি গ্রামে।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরের জোয়ারে রিং বাঁধের প্রায় ৫ টি পয়েন্টে ভেঙ্গে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকে নিন্মা ল ডুবে গেছে। রাতের জোয়ারের আগে যদি বাঁধ দেওয়া না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলকাবাসী। বাঁধ ভাঙার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম।
সরজমিনে এলাকা ঘুরে জানা গেছে, আম্পানে দয়ারঘাট গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত নির্মানাধীন রাস্তার ছোট ছোট ৩ টি পয়েন্ট ভেঙ্গে সদরের দক্ষিনপাড়া, দয়ারঘা ও জেলেখালী গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। একইভাবে উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বাঁধ ভেঙ্গে লবন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়।
একই সঙ্গে রিং বাঁধ দিয়ে এসব এলাকায় জোয়ারের পানি আটকানো হয়েছিল। ৮ মাস পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধয়নে বিধ্বস্ত ওই দুই ইউনিয়নে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হলেও অজ্ঞাত কারণে বাকি থেকে যায় সদরের দয়ারঘাট গ্রামের বাঁধটি। এ বাঁধটি নিয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নানারকমভাবে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করলেও দৃশ্যমান কোন কাজ করা হয়নি।
গত বছর ২০ আগস্ট রিং বাঁধ ভেঙ্গে আবার এলাকায় পানি ঢুকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলনকে শ্রমিক লাগিয়ে কাজ করতে বলা হলে তিনি প্রায় ১০ মে.টনের মত কাজ করিয়ে রাস্তাটি টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বরাদ্দের চাউল আজও পাওয়া যায়নি বলে চেয়ারম্যান জানান।
তিনি বলেন প্রত্যেক গোণে বাঁধটি মেরামত করতে সরকারিভাবে বরাদ্দের কথা বলা হলেও আসলে কিছু দেওয়া হয়না। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে তাদের দায় এড়িয়ে চলে যান। বারবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে আর কত কাজ করবে। ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার বরাদ্দ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত গোণ থেকে যদি মুলবাঁধের কাজ করতেন তাহলে আবার ভাঙ্গতো না।
তারা মালামাল নিয়ে এসে কাজে গড়িমসি করছেন। সমস্ত রিং বাঁধ চুঁইয়ে পানি ভেতরে ঢুকছে। এরমধ্যে দয়ারঘাট ও আশাশুনি গ্রামের পিচের রাস্তা উপর দিয়ে দেওয়া রিং বাঁধের ৫টি পয়েন্ট ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে। পুলিন দাশ, নিরান দাশ, রনজিৎ বৈদ্যের বাড়ীর ভেতর থেকে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও মনিন্দ্র সানার বাড়ীর পাশে ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে।
এতে প্রায় ছোট ছোট ৫০টি ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে এবং বোরো ধানের কয়েকটি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রাতের জোয়ারে আগে বাঁধতে না পারলে আরও বিস্তির্ণ অ ল প্লাবিত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও গোলাম রাব্বী জানান- ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করবে মুলবাঁধে। তার আগে আমাদের রিং বাঁধটি সংরক্ষন করা জরুরী। আমরা প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ দিয়েছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আসতে রওয়ানা হয়েছেন। এলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নদীর প্রবল জোয়ারে উপজেলার প্রতাপনগরের হরিশখালী, শ্রীউলার নাসিমাবাদ, খাজরার ৭ নং ওয়ার্ড ও গদাইপুর, আশাশুনি সদরের মানিকখালী গ্রামে রিং ও মুলবাঁধ ভেঙ্গে পানি ভেতরে ঢুকেছে। তবে বড় ধরনের কোন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সেসব বাঁধগুলি বাঁধতে কাজ করছেন।
এদিকে আশাশুনি সদরের বাজারে মরিচ্চাপ নদীর কোন বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি বিভিন্ন দোকানঘরের ভেতর দিয়ে ঢুকে আশাশুনি হাইস্কুল সড়ক ও থানা পুকুর প্লাবিত হয়েছে।