প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৪৯
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি হঠাৎ করেই চাঙা হতে নানা কর্মসূচি শুরু করেছে। আর ওইসব কর্মসূচিতে নিজেদের আধিপত্যকে জানান দিতে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব প্রকাশ পাচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে বরিশাল মহানগর যুবদলের দুই নেতার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দলীয় কার্যালয়ে হামলা এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন যুবদলের এক নেতা। তবে যুবদলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এছাড়া পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন।
প্রত্যক্ষদর্শী যুবদল নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, মহানগর যুবদলের কর্মী সভায় যোগদান করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ওই কর্মী সভা সফল করার লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা ও মহানগর যুবদল। সভা চলাকালে রাত ৯টার দিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সরোয়ারপন্থী মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন ও সাবেক মেয়র কামালপন্থী যুগ্ম সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জাহানের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। যা এক পর্যায় হামলা এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুরে রূপ নেয়।
তারা জানান, দুই নেতার কথা কাটাকাটির এক পর্যায় মাসুদ হাসান মামুন এর দুই অনুসারী বশির, ঝুনু ও রাহাতসহ বেশ কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে হট্টগোল শুরু করে। তারা দলীয় কার্যালয়ে থাকা যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলামের গায়ে চেয়ার ছুড়ে মারে। এতে আহত হন তিনি। এসময় মাজহারুল অনুসারীরা বিপক্ষের নেতা-কর্মীর ওপর পাল্টা হামলার চেষ্টা করেন এবং মারামারি এবং চেয়ার ভাংচুরে লিপ্ত হন। এ নিয়ে দুই গ্র“পের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লবসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করেন।
এদিকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ এবং সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুদ হাসান মামুন তার অনুসারীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর মাজহারুল ইসলামের অনুসারীরা সদর রোডে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশি বাঁধায় তা পন্ড হয়ে যায়।
মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান পলাশ বলেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা যুবদলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলো পার্টি অফিসে। আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ কিছু সময় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বসি। এসময় হঠাৎ করে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী আওয়ামী লীগের ইন্ধনে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পার্টি অফিস ভাঙচুর করেছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে আমাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন এবং কর্মীসভা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করি। সেখানে কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনের অসাংগঠনিক আচরণ এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায় সে তার অনুসারীদের নিয়ে আমার ওপর হামলা করে।
এবিষয়ে জানতে সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব উপস্থিতি সাংবাদিকদের বলেন, এক ঘরে একাধিক ভাই থাকলে একটু ঝগড়া হতেই পারে। এটা বড় কোন ঘটনা নয়।