
প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২৪, ১৬:৫৬

রাজধানীর বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর আসল নাম বৃষ্টি খাতুন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। তার বাবার নাম সবুজ শেখ ওরফে শাবলুল আলম এবং মায়ের নাম বিউটি খাতুন। কলেজের সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর নাম বৃষ্টি খাতুন উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। কুষ্টিয়ার খোকসার বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠলেও অভিশ্রুতি ওরফে বৃষ্টি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতো চলাফেরা করতেন, নিজেই নিজের নাম বদলে 'অভিশ্রুতি' রাখেন। সহকর্মীরাও তাকে অভিশ্রুতি হিসেবেই চিনতেন। হিন্দিতে কথা বলায় পটু ছিলেন তিনি। তার যাতায়াত ছিল রমনা কালী মন্দিরেও। তবে পারিবারিক পরিচয় গোপন করতেন। কর্মক্ষেত্রে জমা দেওয়া বায়োডাটায়ও নিজেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই তরুণী। কিন্তু মৃত্যুর পর মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় জানা গেছে তার আসল নাম, আর এ নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা।

অভিশ্রুতি ওরফে বৃষ্টির বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসার বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর আসল নাম বৃষ্টি খাতুন। তিনি মুসলিম পরিবারের মেয়ে। বৃষ্টিরা তিন বোন। বৃষ্টি বড়। তার মেজো বোন ঝর্না ও ছোট বোন বর্ষা। তাদের বাবা শাবলুল আলম ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং তার মা বিউটি বেগমও ইসলাম ধর্মের অনুসারী। বৃষ্টি ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। তার জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও নাম বৃষ্টি খাতুন। বাবা শাবলুল ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি মেয়ের মরদেহ নিতে মর্গে গেছেন। কিন্তু নামপরিচয় স্পষ্ট না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তরে জটিলতা দেখা দেয়। কোন রীতিতে সৎকার করা হবে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন জাগে। রমনা কালী মন্দিরের পক্ষ থেকেও তার মরদেহ নিতে আসেন সেখানকার পুরোহিত। তবে শেষপর্যন্ত মরদেহটি 'বৃষ্টি খাতুন' হিসেবেই পরিবারের কাছেই হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে ও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।
এর আগে অভিশ্রুতির প্রকৃত পারিবারিক পরিচয় নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তার পরিচিত কেউ কেউ দাবি করেছেন, বৃষ্টির বাবা-মা ভারতের বেনারসে পুরোহিত ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর মেয়েটি কোনো এক ঘটনাচক্রে কুষ্টিয়ার শাবলুলের কাছে বড় হয়। এদিকে বৃষ্টি খাতুন যে ফেসবুক এবং চাকরিক্ষেত্রে অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে পরিচিত ছিলেন, এটা জানতেন না পরিবারের কেউ।