প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১৭:৫২

নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ধীরে ধীরে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি এসব বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একদলীয় শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
বক্তব্যে তিনি সংসদীয় রাজনীতির সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় বা অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করার প্রবণতা থেকে সব দলকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে বলেও উল্লেখ করেন।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সরকারের দায়িত্ব হলেও এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনে আন্দোলনকারীদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের ত্যাগ ও ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনের শেষদিকে তিনি নারায়ণগঞ্জের জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।