
মূর্তি না ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরে বাংলাদেশে। এ নিয়ে বেশ আলোচনা করেছনে ডাক্তার আরিফুর রাহমান। ইনিউজ৭১ এর দর্শকদের জন্য আমরা হুবহু তুলে ধরলাম। মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, "মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। মূূর্তি বা প্রতিমা তৈরি হয় উপাসনার জন্য আর ভাস্কর্য সৌন্দর্যের অংশ।খুব সুন্দর কথা বলেছেন তিনি। বাংলা ভাষায় ভাস্কর্য আর মূর্তি বলতে আমরাও বুঝি দুটো জিনিষ এক নয়।
কিন্তু কোন ভাস্কর যখন তার শিল্পকর্মটিতে কোন দেবদেবী বা মানুষের চেহারা বানিয়ে ফেলেন তখন আমরা সাধারণভাবে সেটিকে চেহারা অনুযায়ী মা' দুর্গা, মা' কালী, গনেশ অথবা মানুষ হলে বলি--নেতাজির আবক্ষ মূর্তি, বা গান্ধীজির মূর্তি ইত্যাদি। পূজার মূর্তি ছাড়া কিছু মানুষের মূর্তিকে আমরা শৈল্পিক দৃষ্টিতে সুন্দর ভাস্কর্যও বলি যেমন মাইকেল এঞ্জেলোর বা বেনইনোর শিল্পকর্ম। একই শিল্পকর্ম যখন আবার কোন পরিচিত মানুষের অবয়ব হয়ে যায় সেটি আবার অমুকের মূর্তি বলেও পরিচিতি পায়। এটুকু আলোচনায় তাহলে বোঝা যাচ্ছে মূর্তি আর ভাস্কর্য শাব্দিক ভাবে এক না হলেও বৈষয়িক ভাবে একই ঘরানার হয়ে যায় মূর্তির ক্ষেত্রে।
মুসলিম প্রধান দেশে যেহেতু মূর্তি শব্দটি নিয়ে এক ধরনের সংবেদনশীলতা আছে তাই মূর্তিকে মূর্তি না বলে ভাস্কর্য বলা হচ্ছে, এটি একদলের অনুযোগ। এই কথার জবাবে ভাস্কর্য দল বলছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবে শুনে স্বাধীনতার শত্রুদের মাথা গরম হয়ে গেছে, তাঁরা এটিকে মূর্তি বলে ঠেকাতে চাইছে। এই রাজনৈতিক ইস্যুটিতে জটিলতা থাকতে পারে, গরম ঠান্ডা ব্যাপার থাকতে পারে, এগুলি নেতারা ম্যানেজ করুক বা তারা ঝগড়া করুক, আমরা শুধু একাডেমিক আলোচনার বিষয়টিতে থাকি।"ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়" পক্ষের একজন অধ্যাপক মুরব্বি সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, 'সুলেমান নবী ভাস্কর্য বানাতেন।' তাই কোরানে ভাস্কর্যের অনুমতি আছে। ( নাউযুবিল্লাহ)। সম্ভবতঃ বাংলা অনুবাদের দিকে তাকিয়ে তিনি একথা বলেছেন, মূল কোরানে না যেয়ে।

১) মুসনাদে আহমাদ ৬৫৭ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, আলী ইবনে আবী তালেব (রা) বলেন, নবী করীম (সা) একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধিসৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী (রা) এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হলেন। এরপর নবী (সা) বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরি করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সা) প্রতি নাজিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ সহীহ মুসলিম ৯৬৯ নম্বরে একই হাদিস বর্ণিত হয়েছে আবুল হাইয়াজ আসাদীর বরাত দিয়ে।