
প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৩

হত দরিদ্র লাল মিয়া। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। পেশায় ভ্যান চালক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে ছুটে বেড়ান কুয়াকাটার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। মঙ্গলবার গভীর রাতে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে ভ্যান নিয়ে দাড়িয়ে শীতে কাঁপছিল তিনি। হঠাৎ করে তার সামনে থামল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি। শীতে লাল মিয়ার জবুথবু অবস্থা দেখে ইউএনও তার গায়ে জড়িল দিল কম্বল। এতেই লাল মিয়া বেজায় খুশি। সঙ্গে সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়াও করলেন লাল মিয়া।
এভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাঝ রাত থেকে শুরু করে শেষ রাত অব্দি অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করেছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিবুর রহমান। কলাপাড়া পৌর শহরের চৌরাস্তা, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট ও কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে ৫০ জন মানষিক ভারসাম্যহীন, ৫০ এতিমখানা মাদ্রাসার এতিম ছাত্র ও শতাধিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের বরাদ্ধকৃত এসব কম্বল বিতরন করা হয়। গত কয়েকদিন বৃষ্টির পর শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি এ উদ্যোগ গ্রহন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র এএসপি জহিরুল ইসলাম, উপজেলা ঘূর্নিজড় প্রস্তুতি কর্মসূচির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খানসহ ট্যুরিষ্ট পুলিশের সদস্যরা।
লাল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, দুই মেয়ে এক ছেলের জনক সে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে প্রায় নি:স্ব হয়ে গিয়েছিলেন। পরে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটি ভ্যান ক্রয় করেন। সেই ভ্যানের চাকায় কোন মতে ঘুরতে থাকে তার জীবন জীবিকা। তার সমান্য আয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতেই হিমশিম খেতে হয়। শীত নিবারনের জন্য শীত বস্ত্র কেনার সামর্ত নেই তার। পুরনো যে কম্বল কিংবা লেপ ছিল তা ব্যবহার করেন তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা। নিজে ঘুমানোর সময় ব্যবহার করতেন একটি পাতলা কাঁতা ও তার গায়ের ছেড়া জ্যাকেট। কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানান, শীতার্তদের মাঝে বিতরনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে ছয় হাজার দুইশত কম্বল বরাদ্ধ পেয়েছি।

ইনিউজ ৭১/এম.আর