
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০:৪৪

একদিকে নদী হতে আসা গা হীম করা কনকনে ঠান্ডা বাতাস অন্যদিকে টানা তিন দিন সূর্যের দেখা নেই। এ অবস্থায় ভোলার বোরহানউদ্দিনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়া প্রায় তিন হাজার ছিন্নমূল পরিবার ভয়াবহ শীতের কামড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ ব্যাধী। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের অবস্থা খুবই নাজুক। শৈত্য প্রবাহের ফলে বেড়িবাঁধে ঝুঁপড়ি ঘরে বাস করা খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি বয়ে এনেছে। ইতিমধ্যেই শীতের প্রকোপে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া এবং বয়স্কদের হাপানি, সর্দি, কাশির প্রাদূর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রমত্তা মেঘনা সংলগ্ন উপজেলার হাসাননগর, বড়মানিকা, পক্ষিয়া, টবগী ইউনিয়ন ও তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন গঙ্গাপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধে বাস করা তিন হাজার ছিন্নমূল পরিবারে শীত অনেকটাই অভিশাপের মতো।
সরেজমিনে টবগী ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে বেড়িবাঁধে বাস করা আবু জাফর, নুরুল ইসলাম, কাজল মিয়া,আ. রব,ইয়াছিন জানান,মেঘনা ঘর-বাড়ি কেঁড়ে নেবার পর উপায়ান্তর না দেখে এখানে তারা বসতি গেড়েছেন। নদীতে মাছ ধরে কোন রকমে দিন চলে। পরিবারের সবার গরম কাপড়ের আব্দার থাকলেও চাহিদা মেটাতে পারছেননা। একই এলাকার শাহনুর ও রাবেয়া বেগমের স্বামী মারা গেছে বেশ কয়েক বছর আগে। তাদের ১০-১২ বছরের সন্তান রুবেল ও মিজানকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। সন্তান দু’টির অসুখ লেগেই আছে। পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের খোরশেদ, বশির, হেজন আলী, নুরে আলম জানান, দিন মুজুরী করে টেনে-টুনে তাদের সংসার চলে। অনেক কষ্টে কাথা মুড়ি দিয়ে তাদের রাত কাটে।
বড়মানিকা ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের আবু তাহের, নুর সলেমান, রফিজল মৃধা, হানিফ শেখ বলেন, কষ্ট আমাগোরে ছাড়েনা। আষাঢ়-শাওন মাসে গাঙ্গে থাবা মাড়ে,শীতে রক্ত ঠান্ডা কইর্যা দেয়। পেট সামাল দিমু না গরম কাপড় কিনমু! হাসাননগর ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের উপর দিনমুজুর ফিরোজ আলম, দাইমুদ্দিন,সেকান্তর আলী, মাহে আলম বলেন, নদীর সাথে যুদ্ধ করে সব শেষ, রোজকার খাবার যোগার করতেই পারিনা, আবার গরম কাপড়! তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে বাস করা মরিয়ম বেগম, আছিয়া খাতুন জানান, তাদের ৯-১০ বছরের শিশু আতিক ও রাসেলের ৭ দিন ধরে জ্বর। রাসেল ও আতিককে কাথা জড়িয়ে কুন্ডলী পাকানো অবস্থায় দেখা গেলো। বড়মানিকা ইউনিয়নের ষাটোর্ধ্ব হযরত আলী, আলী একাব্বর, জসিমউদ্দিনের ক্রমাগত কাশিতে হাপড়ের মতো বুক উঠানামা করতে দেখা যায়।
তাদের দিনমুজুর ছেলে সালাউদ্দিন, আবুল কাশেম ও নয়ন মিয়া জানালেন, শীত বাড়ার সাথে সাথে তাদের বাবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, বাবাকে না পারি চিকিৎসা করাতে, না পারি গরম কাপড় দিতে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম শাহিন জানান, সাধারণ মানুষের প্রচলিত ধারণা ভুল,শুধু গরমের সময়ই ডায়রিয়া সহ অন্যান্য রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা যায়। এ ধারনা ভুল। শীতের সময় শিশুদের ডায়রিয়া সহ নিউমোনিয়া এবং বৃদ্ধদের ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট, হাপানির প্রকোপ বাড়ে। এখন ওই ধরনের রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব