
প্রকাশ: ৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১:১০

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে নিয়মিত সুবিধার বাইরেও সুবিধা ভোগ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ব্যথার সমস্যা পুরনো। আগেও তাকে মাঝে-মধ্যে হুইল চেয়ারে বসতে হয়েছে। বরং খালেদা জিয়া কারাগারে রাজার হালে আছেন।’ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার পরিবার খুনির পরিবার
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদেশে সন্ত্রাসের গডমাদার হচ্ছেন খালেদা জিয়া। বাংলা ভাই সৃষ্টি থেকে শুরু করে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা, হরতাল-অবরোধ ডেকে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, এতিমের টাকা চুরি করা—হেন কোনও অপকর্ম নেই, যা তিনি করেননি।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ভোট চুরি, মানুষ হত্যা, আগুন দিয়ে পোড়ানো, দুর্নীতি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানসহ মানুষ হত্যা অর্থাৎ জিয়া যেমন খুনি ছিল, খালেদা জিয়াও আরেক খুনি, তার ছেলেও খুনি। এই পরিবারটাই খুনের পরিবার। মানুষ খুন করা, দুর্নীতি করা, অর্থ আত্মসাৎ করা ছাড়া আর কিছুই জানে না তারা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্য অনেকের মায়াকান্না দেখি। খালেদা জিয়া যে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করলো, তার হুকুমে কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে, কত বোন আগুনে পুড়ে বিকৃত চেহারা হয়েছে, সেটা লোকেরা ভুলে যায় কেন? ছাত্র, ছাত্রী, শিক্ষক, আইনজীবী—কেউ তো বাদ যায়নি। দরদটা যারা দেখায়, তাদের আবার আগুনে পোড়া মানুষের চেহারাটা একটু দেখে আসা উচিত।’
অবাধ বাক-স্বাধীনতা আছে
দেশে বাক-স্বাধীনতা নেই বলে যারা অভিযোগ করেন, তাদের উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে মানুষের কথা বলার অবারিত সুযোগ পাচ্ছে! টক শোতে গিয়ে মিষ্টি-টক সব কথা বলে যাচ্ছে। তারপরও এ সরকারের আমলে কথা বলার অধিকার নেই! আসলে এ ধরনের পরচর্চা করা এটা তাদের অভ্যাস।’

আওয়ামী লীগের হাত ধরেই উন্নতি
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই দেশের মানুষের উন্নতি হয়েছে দাবি করে দলটির সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আসার আগে যদি এতই উন্নতি হয়েছে, তাহলে দারিদ্র্যর হার কমেনি কেন? প্রবৃদ্ধির হার বাড়েনি কেন? মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়নি কেন? একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে। তখন এসব হয়েছে। আমরা ৮ দশমিক ১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে মা বোন থেকে শুরু করে প্রত্যেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
জাতীয় কমিটি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফরউল্যাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানসহ জাতীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন করে প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, দলের সভাপতি মনোনীত ২১ জন সদস্য ও উপর্যুক্তভাবে নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি গঠিত। জাতীয় কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ৮১ (কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ), ৭৮ (সাংগঠনিক জেলা) ২১ জন (সভাপতির মনোনীত) মোট ১৮০ জন।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব