
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০:৪

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছাগল চুরির অপবাদে মা-ছেলেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারটার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে নির্মম এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মা শাহীনুর বেগম (৪৫) ও ছেলে ইউসুফ (১৯) কলাপাড়া হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এঘটনায় কলাপাড়া থানা একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ইউসুফ জানায়, সে পেশায় একজন মটোরসাইকেল চালক। ঘটনার দিন রাতে মহিপুর বাজার থেকে যাত্রি নিয়ে পাখিমারা বাজারে নামিয়ে হোন্ডা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এসময় তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। এর কিছুক্ষন পরে বাড়ির ভিতর থেকে কেউ একজন এসে তাকে ছাগল চোর বলে ধাওয়া করে। প্রান ভয়ে দৌড় দিলে তাকে ধরে দুহাত পিচ মোড়ে বেধে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে তার মা ঘটনাস্থলে পৌছলে তার সামইে তার মাকে নির্যাতন চালায় একই এলাকার জসীম, বনি-ইয়ামিন, শাহীন, সাকিবসহ আরো ৭/৮ জন। তার মাকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে লোহার শিকল দিয়ে বেধরক পিটিয়ে ডান হাত ও দুটি আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেলা হয়। বর্তমানে ভাঙ্গা হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের যন্ত্রনা নিয়ে হাস পাতালের শয্যায় এপাশ ওপাশ ঘুরে শুতে পারছেননা তিনি। শাহীনুর বেগম জানান, ছেলেকে বাচাতে গিয়েচিছলাম। ওরা আমার উপড় অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছ।
আদমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান আহমেদ জানান, তার সামনেই কয়েক দফায় চলে এমন নিষ্ঠুরতা। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি বাধা দেয়ার সাহস পাননি। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান এ্যাড: নাসীর মাহমুদ জানান, আমি যতটুকু জানতে পেরেছি প্রকৃত পক্ষে ওই ছেলেটা চুরি করেনি। ঘটনাস্থল থেকে অনেক দুরে ছিল এমনকি ওর কাছে ছাগল পায়নি। কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মদ আলী জানান, আপনাদের মাধ্যমে এই মাত্র শুনতে পেয়েছি। খোজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইনিউজ ৭১/এম.আর