আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম) নতুন পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে সরকার এবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বই ছাপার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর দেশি প্রেস মালিকরা বই ছাপার কাজ করে আসলেও এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। এর কারণে দেশের কাগজশিল্প ও ছাপাখানাগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব গুরুতর হতে পারে। মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের কারণে দেশের লাখো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়তে পারেন।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২৭তম বৈঠকে মাধ্যমিকের ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ৮০২ কপি বই ছাপার প্রস্তাব ধরা হয়, যার মোট ব্যয় ধরা হয় ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তবে কমিটি এই প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি। পরে বিধি ৮৩(১) (ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা কমানো হয়েছে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতা জানিয়েছেন, দেশি ছাপাখানার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সরকার আন্তর্জাতিক দরপত্রে যাচ্ছে। বিদেশি ছাপাখানাগুলোতে ভ্যাট ও ট্যাক্স সরকার বহন করে, ফলে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। এতে দেশের কাগজশিল্প, ছাপাখানা ও সম্পর্কিত শ্রমিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক কমিটির সভায় এনসিটিবির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, তাই আন্তর্জাতিক দরপত্রের বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই।
শিক্ষাব্যবস্থা ও দেশি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় আন্তর্জাতিক দরপত্রের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিলে দেশের শ্রমিক ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।