দেশের সব মাদ্রাসায় বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও ঐতিহ্য ধারণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বুধবার (৯ এপ্রিল) একটি অফিস আদেশ জারি করে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব মাদ্রাসায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের নববর্ষ এবং দেশের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উপলক্ষে মাদ্রাসাগুলোকে উৎসবের রঙে সাজানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তি, বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারোসহ অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান করতে হবে। এই নির্দেশনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও এবতেদায়ি প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর সব মাদ্রাসায় অনুষ্ঠান করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে যে সংস্কৃতি ও উৎসবের চর্চা চলে, তা মাদ্রাসাগুলোতেও ছড়িয়ে দিতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাংলা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে, গত ২৩ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসব করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
মাদ্রাসায় বাংলা নববর্ষ উদযাপনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি জানার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে।