
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১৮:২১

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে দেশের ৪৯ বিশিষ্ট নাগরিক একযোগে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে শেয়ার করা বিবৃতিতে তারা দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণের জন্য একত্রিত হওয়ার এবং সহনশীলতা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আসে। সে সময়ের পর দেশ নতুন সূচনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীর সমর্থন অর্জন করেছে এবং সমাজের সব অংশের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক উত্তরণে কাজ করছে।
তবে, বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পতনশীল শাসকগোষ্ঠী ও তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সহিংসতার উসকানি দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিপীড়নের বিষয়ে অতিরঞ্জিত এবং মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে সরকারি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।" তারা আরও বলেন, "এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করবে, বরং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপপ্রচারেও ভূমিকা রাখবে।"


বিশিষ্ট নাগরিকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক সহিংসতা দেশের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করেন, এই মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। তাই, কোনো ধরনের সহিংসতা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে সংকটাপন্ন করে তুলবে।
সবশেষে, বিবৃতিতে জাতির প্রতি আহ্বান জানানো হয় যে, ধর্ম, রাজনৈতিক বিশ্বাস কিংবা অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে দেশের সমস্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য একত্রিত হতে হবে। বিশিষ্ট নাগরিকদের মতে, "জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার মাধ্যমে দেশকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।"
বিবৃতিতে সইকারী ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ গবেষণা বিশ্লেষণ ও তথ্য নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ড. রুমি আহমেদ খান, ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির প্রতিষ্ঠাতা ড. শামারুহ মির্জা, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ডা. শফিকুর রহমান, অর্থনীতিবিদ মো. জ্যোতি রহমান, এবং আরও অনেক বিশিষ্ট নাগরিক।