
প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫৩
চীনকে বর্তমানে অচল করে রেখেছে করোনাভাইরাস। বিশেষ করে মধ্য হুবেইপ্রদেশকে। উট, গবাদিপশু, বিড়াল ও বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেহে পাওয়া ভাইরাসের একটি বড় পরিবারের অংশ এই ভাইরাস। সংক্রমণের নির্দিষ্ট সূত্র বের করে নিয়ে আসতে এটির জিনগত শাখার বিশ্লেষণ করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে সিভিট ক্যাট ও উট থেকে সার্স এবং মার্সের মতো আলাদা দুটি করোনাভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করেছে। নতুন এই করোনাভাইরাস মানুষের হাঁচি, কাশি ও শ্বাসপ্রশ্বাসে নির্গত বস্তু থেকে অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু এই ভাইরাসের চিকিৎসায় নির্দিষ্টভাবে কোনো সুপারিশ নেই। কেউ আক্রান্ত হলে তাকে কোয়ারেন্টাইন করে রেখে শ্বাসকষ্ট, কাঁশি ও জ্বরের মতো ফ্লুধর্মী উপসর্গের চিকিৎসা দিতে হবে। আর পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো সক্রিয় রাখতে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মাস্ক পরা, বারবার হাত ধোয়াসহ নিবৃত্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
উহান থেকে পূর্ব তুর্কিস্তানের রাজধানী উরুমকিতে বিমান ও অন্যান্য যোগাযোগের কারণে ইতিমধ্যে সেখানে করোনাভাইরাস বিস্তার করেছে। আক্রান্ত হওয়ার খবর বের হয়ে আসতে শুরু করেছে। সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও চীন ও বিশ্বের সরকারগুলো উইঘুর অঞ্চলে করোনাভাইরাস বিস্তারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করছে। এতে অঞ্চলটিতে উহানের চেয়েও তীব্র সম্ভাব্য মহামারী ও মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একেকটি ক্যাম্পে কয়েক হাজার উইঘুরকে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের এই আটকের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। কাজেই কয়েক লাখ উইঘুরসহ আটক সংখ্যালঘুরা করোনাভাইরাসের বিপর্যয়কর শিকারে পরিণত হতে পারেন।
বাইরের দেশের চাপ ছাড়া পূর্ব তুর্কিস্তানে করোনাভাইরাস রোধে চীন পর্যাপ্ত পদক্ষেপ শিগগিরই নিচ্ছে না বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে। সেখানের ক্যাম্পগুলোতে চীনের গণআটক ও নজরদারির বিস্তৃত তথ্য বেরিয়ে আসার পরেও মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা অস্বীকার করে আসছে বেইজিং। বিভিন্ন দেশে বাস করা উইঘুররা জানতেও পারছেন না যে ক্যাম্পের ভেতর তাদের পরিবার সদস্যরা বেঁচে আছেন কিনা। তাদের আশঙ্কা, ক্যাম্পগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ইচ্ছা করে উপেক্ষা করে যেতে পারে চীন কিংবা ভিন্ন কারণে মৃত্যুর দায়গুলো এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ওপর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নিতে পারে।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব