
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ৪:৬

চীনে কয়েক লাখ উইঘুর মুসলিমকে গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে কীভাবে তাদের মগজ ধোলাই করা হচ্ছে তার কিছু দলিলপত্র সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে এ ধরনের গোপন বন্দিশালার কথা চীন বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে এবং তারা বলে থাকে যে মুসলিমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় এখানে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে। তাদের দাবি, এগুলো আসলে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা শিবির। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইজে যেসব ফাঁস হওয়া গোপন দলিলপত্র হাতে পেয়েছে, তাতে দেখা যায় কীভাবে এই উইঘুর মুসলিমদের বন্দী করে মগজ ধোলাই করা হচ্ছে এবং শাস্তি দেয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে উলঙ্গ করে পায়ে শেকল পরিয়ে দিল। খুবই ভীতিকর অভিজ্ঞতা। ওরা আমাদের মানুষ বলে গণ্য করতো না। সেখান থেকে জীবিত বেরিয়ে আসতে পারবো বলে ভাবিনি কখনো।’ ইয়ো জান তার যে অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন, সেটা বন্দিশিবিরে আটক আরও লাখ লাখ উইঘুর মুসলিমেরই কাহিনী।
বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের আইনি উপদেষ্টা বেন এমারসন বলেন, ‘বিশ্বের বড় পরাশক্তি হয়েও চীন তার জনগণকে আটকে রাখছে। তাদের বিশ্বাস, ভাষা এবং নিজস্ব জীবনযাত্রা পুরোপুরি বদলে ফেলছে। এটাকে গণহারে মগজ ধোলাই ছাড়া অন্য কিছু ভাবা আসলেই কঠিন। একটা পুরো জাতিগোষ্ঠীকে টার্গেট করে এই কাজ চালানো হচ্ছে।’

লন্ডনে চীনের রাষ্ট্রদূত লিও যাও মিং এসব বন্দিশিবিরের ব্যাপারে বিবিসির সরাসরি প্রশ্নের কোন জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু এর আগে গত সপ্তাহে তিনি হংকংয়ের ব্যাপারে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন। সেখানে বিবিসির সাংবাদিক রিচার্ড বিল্টন তাকে এসব বন্দিশিবির নিয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রথমত বলতে চাই, আপনি যেরকম বর্ণনা দিচ্ছেন, সেরকম কোন বন্দিশিবির সেখানে নেই। এগুলো আসলে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে তাদের রাখা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের জন্য।’ রিচার্ড বিল্টন এরপর পাল্টা প্রশ্ন করেন, তার মানে তিনি যা দেখে এসেছেন, তা সত্য নয়?
চীনের রাষ্ট্রদূত এর জবাবে বলেন, ‘আপনি যে তথাকথিত দলিলের কথা বলছেন, সেটা পুরোটাই বানোয়াট। ভুয়া খবরে বিশ্বাস করবেন না। বানানো গল্প শুনবেন না।’
কিন্তু আইসিআইজের সাংবাদিকরা বলছেন, ‘এসব দলিল মোটেই ভুয়া নয়। এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ। চীন লাখ লাখ মানুষকে খাঁচায় বন্দী করে তাদের মগজ ধোলাই করছে এবং এখন আমরা জানি কীভাবে সেটা করা হচ্ছে।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব