
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:২৩

কুরআন শব্দের অনেকগুলো অর্থ আছে যেমন, পাঠ, আবৃত্তি, পাঠ কর, সংকলন, সংগ্রহ, ব্যাখ্যা, অধ্যয়ন, অনুসন্ধান, নিদর্শন ও আরো অনেক কিছু। এই অর্থগুলি দিয়ে কোরআনের রচিয়তা লেখক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দাদের বোঝান যে যদি আপনার একটি কুরআন থাকে আর সেটি আপনার বাসার কোনও রুমে কোন তাকের উপর গেলাফ মুড়িয়ে রেখে দেন তা হলে এটি কুরআন নয়, এটি কেবল একটি বই বা গ্রন্থ। তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করলেই সেটি কেবল 'কুরআন' এ পরিণত হয়।
তাই ইসলাম ধর্মের সত্যতা আর এর নূরের তাজাল্লি যখন অংশীদারি আর অবিশ্বাসী শয়তানের অনুসারীদের কলুষিত অন্তর জ্বালাতে থাকে ঈর্ষায় আর ক্ষোভে, তখন তাদের কেউ কেউ ঘেউ ঘেউ শুরু করে আর কেউ কেউ খামাখা উন্মাদ হয়ে কখনো কখোনো বইটি পুড়িয়ে ফেলতে পারে, বা পাগলা শেফুর মত লাঞ্ছিত করতে পারে, বা তসলিমার মতো একহাতে সিগারেট আর বাম হাতে কোরআন নিয়ে বলতে পারে, 'এই বইর অনেক কিছু বদলাতে হবে'। কিন্তু যারা এটি করে বা বলে তারা মূর্খ, কারণ এটিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তার সর্বশেষ রচনা, যার কোন প্রিন্টিং পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন ও সম্পাদনা করার উপায় নেই আধুনিক বাইবেল বইয়ের মতো।
আসল কোরআনুল করিমকে পৃথিবীর কোন শক্তির পোড়ানোরও ক্ষমতা নেই, কারণ আল্লাহ কোরআন পাঠিয়েছেন অন্তরে গেঁথে রাখার জন্য। কোটি কোটি কোটি মানুষের অন্তরে পুরো কোরআন গেঁথে আছে দাড়ি, কমা হসন্ত সহ, সেটিই আসল কোরআন। আল্লাহর তরফ থেকে লিখিত, চামড়ায় বাঁধাই করা ফেরেস্তা আর্টিস্ট দ্বারা রঙ্গীন ক্যালিগ্রাফি করা কোন একটি পূর্ণাঙ্গ বই একত্রে মোড়ক উন্মোচনের মতো জিব্রাইল (আ) নিরক্ষর নবীর(সা) হাতে তুলে দেননি। ধীরে ধীরে দুই যুগ ধরে বইটি এসেছে,--হেফজ করেছে বিশ্বাসীরা, লিখেও রেখেছে অনেকে। হাফেজদের কাছ থেকে আল্লাহর প্রেরিত বাক্য ও শব্দগুলির আবৃত্তি শুনে শুনেই মূলতঃ হজরত আবুবকর(রা) কোরআন সংকলন করে গ্রন্থ কুরআন বানিয়েছিলেন। সেই কোরআনের দু একটা প্রিন্টেড কপি পুড়িয়ে না ধর্ম ইসলামকে মুছে ফেলা যাবে না গ্রন্থ কোরআনকে।
এছাড়া আল্লাহর ঘোষিত ৫টি চ্যালেঞ্জ বিশ্বের সবার জন্য সব সময়েই খোলা আছে।

ইসলাম শব্দের মধ্যেই সালাম বা শান্তি বসে আছে। আরবি সলিমুন বা শান্তি থেকে ইসলাম শব্দটি এসেছে। মুসলিম শব্দের ভেতরেও সালাম বা শান্তি বসে আছে। নিজেকে বিনয়াবনত করা, হুকুম মান্য করা, কোন আপত্তি ছাড়াই আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, সর্বান্তকরণে কেবলমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত করা, তিনি যা বলেছেন তার সবকিছুই বিশ্বাস করা এবং তাঁর উপরেই বিশ্বাস এবং আস্থা রাখা ও নবী মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য যে জীবন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলেন, তার নামই হল “ইসলাম”।
শুধু ইসলাম ধর্মের নাম দিয়েছেন আল্লাহ নিজে, বাকি পৃথিবীর সব ধর্মগুলোর প্রত্যেকটির নামকরন হয়েছে হয় কোন বিশেষ ব্যক্তি না হয় কোন বিশেষ জাতিগোষ্ঠী অথবা স্থানের নাম অনুযায়ী।খ্রিসচিয়ানিটি নামটি এসেছে জিসাস ক্রাইস্ট এক ব্যক্তি নবীর নাম থেকে ঈসা (আ) নবীর এই ইংরেজি নামটিও মানুষের দেয়া। বুদ্ধাইজম বা বৌদ্ধ ধর্ম নাম গৌতম বুদ্ধের নাম অনুযায়ী। জরথুসট্র ধর্মের প্রবক্তা জরথুসট্র।ইযাহুদী ধর্মের নাম ইয়াহুদা গোত্র থেকে। হিন্দু শব্দটি উৎসারিত হয়েছে সংস্কৃত সিন্ধু শব্দটি থেকে। এই ধর্মের কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা নেই। অনাদি কাল থেকে এই পরম্পরা চলে আসছে। লৌহযুগীয় ভারতের ঐতিহাসিক বৈদিক ধর্মে এই ধর্মের শিকড় নিবদ্ধ। হিন্দুধর্মকে বিশ্বের প্রাচীনতম জীবিত ধর্মবিশ্বাস বা প্রাচীনতম জীবিত মতবাদ আখ্যা দেওয়া হয়। তাই এটিকে সনাতন ধর্ম বলা হয়।
একমাত্র ইসলাম নামটিই এলিয়েন নাম যা মানুষ দেয়নি, অজানা বিশ্ব থেকে এসেছে, যেখানে আল্লাহ আছেন, আরশ আছে, অবিশ্বাস্য কম্পিউটার সিস্টেম সিদরাতুল মুন্তাহা আছে। এগুলি সব একটি ডিফারেন্ট ডাইমেনশন। সেখানে যেতে হলে, দেখতে হলে আগে মরতে হবে, এই জীবনের চর্মচোখ আর নরম মগজের তা দেখার আর বোঝার সাধ্যি নেই। শুধু নবী (স)একমাত্র জীবিত মানুষ তাঁকে বিশেষায়িত পন্থায় সেগুলি দেখানো হয়েছিলো। তাই আল্লাহ এই চাক্ষুস দর্শনের ঘটনার সত্যতার সাক্ষী দিয়ে বলেন, "নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া বসবাসের জান্নাত।" সূরা নাজম: ১৩, ১৪ ও ১৫।অর্থাৎ মিরাজের রাতে নবী (সা)কে এইসব সিস্টেমের প্রকৃত রূপ দেখানো হয়েছিলো।