
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪

নরওয়েতে পবিত্র কোরআন জ্বালিয়ে দেয়ার সময় ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেছেন এক মুসলিম যুবক। এ ঘটনায় ইলিয়াস নামের ওই যুবক ‘হিরো অব দ্যা মুসলিম’ আখ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন। পুলিশের বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানায়, ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্কতা সত্ত্বেও পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে থারসন নামের এক অমুসলিম। সে সময় ইলিয়াস নামের ওই যুবক পবিত্র কোরআন বাঁচানোর জন্য ব্যারিকেড ভেদ করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
পরে কোরআন অবমাননার দায়ে থারসনকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার পরপরই স্যোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ‘হিরো অব দ্যা মুসলিম’ উপাধি পাওয়া ইলিয়াস নামে ওই যুবকের কোনো পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তার প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এরই মধ্যে লাখ লাখ মানুষ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান ইউনিয়ন নরওয়ে (প্যান) এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্যান এর চেয়ারম্যান চৌধুরী কামার ইকবাল বলেন, একজন ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের অবমাননা করে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি আরো বলেন, নরওয়েজিয়ানরা শান্তিপূর্ণ মানুষ। মুসলিমরাও এখানে শান্তিতে বসবাস করছিল। তবে ইদানীং ইসলাম ফোবিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরও নরওয়েতে অন্যান্য ধর্মের অধিকারকে সম্মান করায় বিশ্বজুড়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।
এ ঘটনায় পুলিশের নিন্দা করে তিনি বলেন, ইলিয়াস যখন কোরআন অবমাননা বন্ধ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তখন পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে অন্যান্য আন্দোলনকারীরা তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। প্যান চেয়ারম্যান এ ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে বিচার দাবি করেছেন। এছাড়া কোরআন অবমাননার ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ। ১৯৬০ এর দশকে প্রথম নরওয়েতে মুসলমানদের অবস্থান দৃশ্যমান হতে থাকে। ১৯৭৪ সালে রাজধানী অসলোতে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয়। বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলমান।

ইনিউজ ৭১/এম.আর