ইসরায়েলের প্রতি টানা সমর্থনের জেরে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ফ্রান্সের অবস্থানকে স্পষ্ট ও লজ্জাজনক ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেন।
আরাগচি বলেন, ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর উচিত বিশ্বকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পরামর্শ দেওয়া বন্ধ করা। তাঁর অভিযোগ, এসব বিষয়ে নৈতিক অবস্থানের কথা বললেও ইসরায়েলের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থন সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসনে ফ্রান্সের সমর্থন দেশটির কথিত নৈতিক অবস্থানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে।
আরাগচির বক্তব্যে মূলত ফ্রান্সের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে দেশটির মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক অবস্থানের বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে অন্য দেশগুলোকে পরামর্শ দেওয়ার আগে ফ্রান্সের নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা উচিত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আরাগচি তাঁর বার্তায় পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের কথা বলা দ্বিমুখী আচরণের প্রকাশ।
ফ্রান্সের উদ্দেশে তিনি কার্যত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিষয়ে অন্য দেশকে নৈতিক পরামর্শ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গাজা ও ইরান ইস্যুতে ফ্রান্সের অবস্থান দেশটির ঘোষিত নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আরাগচির এই মন্তব্যের সূত্র হিসেবে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে।