প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৮:২৬
দীর্ঘ সাত বছর পর চীনে সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাপানে দুইদিনের সফর শেষে শনিবার (৩০ আগস্ট) তিনি চীনের বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মোদি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নেবেন, যা চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যোগ দেবেন।
মোদি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করবেন। দুই দেশের নেতৃত্ব সীমান্ত সংক্রান্ত উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। এর পাশাপাশি সম্পর্ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনা হবে।
এ সফর এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সীমান্ত ইস্যু নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা এখনও রয়েছে। গত মাসে দিল্লি সফর করেছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যেখানে সীমান্ত দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য দুই দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। মোদি জাপান সফরে উল্লেখ করেছিলেন, চীন-ভারত সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মোদি এবং শি জিনপিংয়ের বৈঠককে কূটনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সীমান্ত সম্পর্কিত আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে। দুই দেশের সেনা ও কূটনীতিকরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নিরাপত্তা সমস্যাও আলোচনার অংশ হবে।
মোদি চীনে পৌঁছানোর পর ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন যে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা বৃদ্ধি পাবে। এই সফরকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মনোযোগ দিয়ে দেখছে, বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার দিক থেকে।