
প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ২৩:০

সিরিয়ায় দুই যুগের শাসনব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি সিরিয়ার শাসনক্ষমতা দখল করে নিয়েছে এবং বাশার আল আসাদের সরকারের পতন ঘটেছে। এ ঘটনাটি একদিকে যেমন সিরিয়া, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকে রুশ বাহিনীর সমর্থন পেয়ে শাসন করে আসছিলেন। কিন্তু এবারে, বিদ্রোহীরা একের পর এক তার দুর্গ দখল করে আসাদ সরকারের পতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইতিহাসে যা আগে কখনো ঘটেনি, তা হচ্ছে সিরিয়ার বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত হায়াত তাহরির আল শাম ও অন্যান্য সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মিলিত আক্রমণ। এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কয়েকটি বিদ্রোহী দল, যারা দ্রুত সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকা দখল করে নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে রুশ বাহিনীর সহায়তায় আসাদ সরকার শাসন চালিয়ে আসলেও এবার তাদের ঠেকাতে পারেনি রুশ বাহিনী। এছাড়া সিরিয়ার বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাও এই পতনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত এমন পরিণতি আশা করেননি। রাশিয়া তাদের প্রিয় মিত্র সিরিয়াকে এই অবস্থায় দেখতে চায়নি। তবে, গেল সপ্তাহে সিরিয়ার তারতাস বন্দরের রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের সরে যাওয়ার খবর সামনে আসে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এসব খবরকে রাশিয়া গুজব হিসেবে উল্লেখ করে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, রুশ জাহাজ তারতাস বন্দর ছেড়ে যায়নি। তার মতে, ভূমধ্যসাগরে সামরিক মহড়া চলছে এবং স্যাটেলাইট ইমেজের কারণে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা হলেও তার আগেই সিরিয়ার সরকার পতন ঘটে। এই পরিণতির ফলে সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির গতিপথে এক নতুন পরিবর্তন আনতে পারে।