
প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৫১

সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসান ঘটেছে। বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হাতে ইতোমধ্যেই রাজধানী দামেস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর পতন ঘটেছে। সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন ভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। প্রেসিডেন্ট আসাদ বিনা বাধায় রাজধানী ছেড়ে পালিয়ে যান অজ্ঞাত গন্তব্যে।
বিদ্রোহীদের এই সাফল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীজুড়ে মানুষের ঢল এবং স্বাধীনতার স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে রাস্তাঘাট। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, দামেস্কের কেন্দ্রীয় স্কোয়ারে মানুষ পরিত্যক্ত সামরিক ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করছে।
এদিকে, মুসলিম বিশ্বের নেতারাও এই বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। কাবা শরিফের ইমাম শায়খ ইয়াসির আদ-দাওসারী সিরিয়ার জনগণের বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি বলেন, “সিরিয়ার জনগণ এবং বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এই বিজয় আনন্দের। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মজলুমদের বিজয় দান করেছেন।”
বাশার আল-আসাদ ২০০০ সালে সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন। তার আগে তার বাবা হাফেজ আল-আসাদ প্রায় তিন দশক দেশটি শাসন করেন। তবে ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।

২০১৫ সালে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতায় আসাদের সরকার বিদ্রোহীদের দমনে সফল হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ততা এবং হিজবুল্লাহর দুর্বলতায় বিদ্রোহীরা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে।
সম্প্রতি বিদ্রোহীরা দামেস্কে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারি বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করে। প্রেসিডেন্ট আসাদ শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
বিদ্রোহীদের এই বিজয় সিরিয়ার জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে এ পরিস্থিতি দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনিউজ৭১.