সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শুক্রবার রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে শনিবার থেকে এসব দেশে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে, যা ইনসাইড দ্য হারামাইনসহ বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে করে সৌদি আরবসহ আশপাশের অঞ্চলে শাবান মাস ২৯ দিনে সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্বে সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর ঘোষণা দেয়। এরপর ইন্দোনেশিয়াও একই ঘোষণা দেয়। তবে ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সেখানে রমজান শুরু হবে ২ মার্চ থেকে। ফিলিপাইনেও চাঁদ দেখা না যাওয়ায় একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানেও শুক্রবার রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি, ফলে দেশটিতে রমজান শুরু হবে ২ মার্চ রোববার থেকে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া ও ইথিওপিয়ায় রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, ফলে সেখানেও শনিবার থেকে রোজা শুরু হবে।
ফ্রান্সও শনিবার থেকে রমজান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার তারতম্যের কারণে রমজান শুরুর তারিখে পার্থক্য দেখা গেলেও বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এ মাসকে আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও সংযমের সময় হিসেবে পালন করে থাকেন।
রমজান মাসের সূচনার এ ঘোষণা মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করে। ফলে বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানসহ অন্যান্য দেশেও শনিবার থেকে রমজান শুরু হবে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাঁদ দেখার বিষয়টি বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা নিয়মে পরিচালিত হয়। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে মাস গণনা করা হয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজান শুরুর সময়ের ভিন্নতা সৃষ্টি করে।
রমজানকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বে এক ভিন্ন আবহ বিরাজ করে। এই মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস করেন এবং বিশেষ ইবাদতে অংশ নেন। এ সময় দান-সদকার পরিমাণও বাড়ে এবং সামাজিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই রমজান উপলক্ষে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষত সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করবেন এবং ওমরাহ পালন করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।