
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:৪২

গত ১৪ ডিসেম্বর জরুরী সভা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা আগামী এজিএম ও নির্বাচনের আগে আরেকটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) করবে। কেনো করবে সে কারণও তারা বলেছিল গণমাধ্যমে।
দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বাফুফের গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের সংশোধনী আনতেই ইজিএম আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল বর্তমান নির্বাহী কমিটির। শেষ পর্যন্ত গঠনতন্ত্রে কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে। তাই তো ইজিএম- এর চিন্তাও মাথা থেকে সরিয়ে ফেলেছেন কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাহী কমিটি।
নির্বাচন সামনে রেখে গঠনতন্ত্রে যে দুটি বড় পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল বাফুফে- সেই দুইটিই ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্বাচনে কারা ভোট দিতে পারবেন আর কারা নির্বাচন করতে পারবেন- তা ঠিক করতেই বাফুফে আয়োজন করতে চেয়েছিল বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম)। যে সভায় সংশোধন করা হতো বাফুফের গঠনতন্ত্র।
বাফুফের সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে দেখা গেছে, যে কেউ মনোনয়নপত্র কিনে দাঁড়িয়ে গেছেন ভোটের লড়াইয়ে। ভোটে দাঁড়াতে যোগ্যতা বলতে বাংলাদেশের নাগরিকত্বই যথেষ্ট। কিন্তু বাফুফে ফিরতে চেয়েছিল তাদের পুরোনো নিয়মে, যেখানে তিনিই নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন, যিনি বাফুফের অধীনস্থ সদস্য ক্লাব বা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি (কাউন্সিলর)।
ভোটার (কাউন্সিলর) যিনি প্রার্থী হতে পারবেন তিনি- ২০০৮ সালে এ নিয়মেই হয়েছিল বাফুফের নির্বাচন। পরের দুইবার ২০১২ ও ২০১৬ সালে পরিবর্তন আনা হয় বাফুফে গঠনতন্ত্রে। তখন যে কেউ ভোটে দাঁড়াতে পেরেছেন। এই দুই বছর আবার ভোটার হতে পারেননি বাফুফের নির্বাহী কমিটির কেউ। তাদের মধ্যে যারা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তারা ভোটও দিতে পারেননি।
অর্থাৎ সর্বশেষ দুটি নির্বাচন এজিএম- এ ছিল দুই ধরনের মানুষের প্রতিনিধিত্ব। এক. ভোটার নন, কিন্তু ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা ভোট দিতে পারেননি। দুই. কোনো সংস্থার প্রতিনিধি নন, অথচ তিনি ভোটের এজিএমে অংশ নিয়েছেন। এই দুই পক্ষের প্রার্থীরা অন্যদের কাছে ভোট চেয়েছেন। কিন্তু নিজেদের ভোটাধিকার ছিল না।
সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে ভোটে দাঁড়ানো উম্মুক্ত ছিল বিধায় এমন কিছু মানুষকে নির্বাচনী ময়দানে দেখা গেছে যাদের ফুটবলের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততাই ছিল না। কিছু বিষয় ছিল হাস্যকর। যে যার মতো করে ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশটাকে অন্যরকম করে ফেলেছিলেন।
ভোটের মাত্র চার মাস আগে বাফুফের গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ ভালোভাবে নেয়নি অনেকে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে কাজী মো. সালাউদ্দিনের বিপক্ষে যারা ভোটের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা বাফুফের এই গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন বলে প্রচারণা চালানো চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তরফদার মো. রুহুল আমিন এবং তার অনুসারীরা বাফুফের গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা প্রচার করেন, আবার ক্ষমতায় থাকার কূটকৌশল হিসেবেই বাফুফে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে চান।
এমন কি বাফুফের নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি বাদল রায়ও এই উদ্যোগের বিরোধীতা করে বিবৃতি দিয়েছেন। নানা দিকের সমালোচনার পর বাফুফে গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। তাই সাধারণ সভা ও ভোটের আগে আর বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হচ্ছে না।
‘আমরা ১৪ ডিসেম্বর জরুরী সভায় ইজিএমএর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এখন আমরা আর ইজিএম করছি না। গঠনতন্ত্রও সংশোধন হচ্ছে না। সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে যে নিয়মে ভোট হয়েছে এবারও সে নিয়মে হবে’- বলেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগ। তার মানে বাফুফের আগামী নির্বাচনেও ঝাঁকের কইয়ের মতো প্রার্থী দেখা যেতে পারে। কারণ, যিনি বাংলাদেশের নাগরিক তিনিই পারবেন বাফুফের ভোটের লড়াইয়ে নামতে।
আগামী এপ্রিলে শেষ হবে বাফুফের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। কাজী মো. সালাউদ্দিন সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। অনেক দিন ধরে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তরফদার মো. রুহুল আমিন। বোঝাই যায়, এবার বাফুফের ভোটের লড়াইটা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তবে নাটকীয় কিছু হতে পারে বলেও ফুটবল অঙ্গনের মানুষ বলাবলি করছেন। কী সেই নাটকীয়তা? কৌতূহল মেটাতে অপেক্ষা করা যাক আরো কিছু দিন।
ইনিউজ ৭১/এম.আর