
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২২, ৩:৩৯

কাতারে বিশ্বকাপেই (FIFA World Cup 2022) 'পোয়েটিক জাস্টিস' হয়েছে। ফুটবল বিধাতা সেটাই করেছেন। লিওনেল মেসির (Lionel Messi) মাথায় রাজমুকুট পরিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনি। গত রবিবার লুসেল স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের ফয়সলা হয়েছিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেখানে আর্জেন্টিনা ৪-২ গোলে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে (Argentina vs France)। মেসিদের জয়ের বাঁধনভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন দুই মডেল মিলুবার্বি এবং নোই।
ইনস্টাগ্রামে এই নামেই আছেন দুই মডেল। ফাইনালের রাতে লুসেলে লাস্যের আগুন জ্বেলেছিলেন তাঁরা। দুই আর্জেন্টিনার ফ্যান উত্তেজনায় নিজেদের জার্সি খুলে ফেলেছিলেন। তাঁদের পরনে ছিল না কোনও অন্তর্বাস। তাঁরা নীল-সাদায় নিজেদের স্তন রাঙিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার নজর কেড়েছিলেন। সাদা জিন্স ও টপলেস অবতারে তাঁদের দেখে থ হয়ে গিয়েছিল লুসেলের গ্যালারি।
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই গ্যালারিতে স্বল্পবসনা ললনাদের সারি। ফুটবলের এরকম রঙিন ছবি দেখেই অভ্যস্ত ফ্যানরা। কিন্তু এবার বিশ্বযুদ্ধের আসর বসছিল কাতারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ ফতোয়ার নাগপাশে জড়ানো। নিষেধের বেড়াজালে বাঁধা এখানকার সংস্কৃতি থেকে সমপ্রেম। পোশাক থেকে শুরু করে মদ্যপান! স্বাধীনতা শব্দটাই এখানে বেমানান।

কাতারের স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ দেখার সময়ে দর্শকদের একাধিক বিষয় মাথায় রাখতে হয়েছিল। ফ্যানদের খোলামেলা পোশাক ছিল নৈব নৈব চ। শরীর প্রদর্শনকারী যে কোনও পোশাকই এখানে নিষিদ্ধ। কাতারি আইনে এমনটা করলে মহিলাদের যেতে হবে সোজা শ্রীঘরে! পুরুষরা যদি টপলেস হয়ে যান, তাহলেও দিতে হবে মোটা টাকার জরিমানা। হতে পারে হাজতবাসও।
স্লিভলেস ট্যাঙ্ক টপ যেমন পরা যাবে না, তেমনই আপত্তিকর স্লোগানকেও জানানো হবে না স্বাগত। এখন প্রশ্ন নিজেদের স্তন দেখানোর পর মিলুবার্বি এবং নোই-কে কি জেলে যেতে হয়েছিল? এই দুই মডেল জানিয়েছেন যে, তাঁরা নিশ্চিন্তে দেশে ফিরে এসেছেন। কাতারে তাঁদের আটকায়নি কেউ। যদিও সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে গ্যালারিতে আগুন জ্বালানোর দায়িত্ব একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন প্রাক্তন মিস ক্রোয়েশিয়া ইভানা নল। তিনি ক্লিভেজ ফ্লন্ট করেই কাতারিদের বাধ্য করিয়ে ছিলেন হাঁ করে দেখার জন্য।
সূত্র: জি২৪ঘন্টা