
প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২:১৭
এক দশক পার হলেও হত্যার ঘটনার বিচার কাজ শেষ হয়নি আজও। যেমন আলোর মুখ দেখেনি ফারুকের বিচার। বোনের চাকুরী স্থায়ীকরণ প্রতিশ্রæতিতেই রয়ে গেছে। এভাবেই এক দশক পার হলো সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের । দ্রুত বিচারকার্য শেষ করে আসামিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ফারুকের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার দুপুরে শহীদ ফারুক হোসনের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাম্পাসে শোক র্যালি ও সমাবেশে করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে একটি র্যালি নিয়ে শহীদ ফারুক হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত শাহ্ মখদুম হলের সামনে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবকঅর্পণ করে।
পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমন, রাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, ফারুকের বোন আসমা বেগম, সহ-সভাপতি কাজী লিংকন।
এসময় বক্তারা বলেন, গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারুককে ২০১০ সালে ৮ই ফেব্রুয়ারি নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ ফারুক হত্যার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো এর কোন সুষ্ঠু বিচার পায়নি। আমরা দ্রুত আমাদের ভাই হত্যার বিচার চাই। এসময় ফারুক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা এবং তার বোনের চাকুরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান।
বক্তারা ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়। এছাড়া আসামিদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সনদপত্র বাতিল ও ফারুকের বোন আসমা বেগমের চাকরি স্থায়ী করণের দাবি জানান তারা।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছিলেন সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ নিক্সন, সাদ্দাম হোসেন, মিজানুর রহমান সিনহা, আরিফ বিন জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ, মুশফিক তাহমিদ তন্ময়, দপ্তর সম্পাদক আবুল বাশারসহ বিভিন্ন হল ইউনিটের নেতাকর্মীরা। এছাড়া বাদ আসর শহীদ ফারুকসহ সকল শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় শাহ্ মখদুম (এস এম) হল অডিটোরিয়ামে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ফারুক হত্যা মামলার আসামিদের বেশিরভাগ জামিনে রয়েছেন। কয়েকজন মারাও গেছেন। সাক্ষীরা সময়মতো আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম থমকে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, হল দখলকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় শিবির কর্মীরা। এতে ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন নিহত হন। পরে তাকে ম্যানহোলে ঢুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অসংখ্য অজ্ঞাতসহ শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করেন। ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পর ২০১২ সালের ২৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদালতে ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এতে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ, সেক্রেটারি মোবারক হোসেন, নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, শিবিরকর্মী রুহুল আমিন ও বাপ্পীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পরে এই হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ করছেন সাঈদী। তবে অভিযুক্ত শিবির নেতাকর্মীদের অধিকাংশই জামিনে রয়েছে।
অন্যদিকে শহীদ ফারুকের বোন আসমা বেগম বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দপ্তরের কেন্দ্রীয় পত্র প্রেরণ শাখায় দীর্ঘ ৭ বছর চাকুরি করলেও আজও তা স্থায়ী করেনি প্রশাসন।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব